বাংলা হান্ট ডেস্ক : ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ফের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা যাবে বলে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এই বিষয়ে আগের নিয়ম নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই কমিশনের তরফে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এসআইআরের খসড়া তালিকায় কোনও কারণে জায়গা না পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নতুন করে আবেদন করার সুযোগ থাকছে।
ভোটার তালিকার নাম নথিভুক্তি নিয়ে কী জানাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)?
ফর্ম ৬ সাধারণত ভোটার তালিকায় প্রথমবার নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ফলে যাঁদের আগে থেকেই ভোটার পরিচয় রয়েছে, তাঁরা এই ফর্ম জমা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কমিশনের ব্যাখ্যা, অতীতে ভোটার তালিকায় নাম থাকার পরেও নতুন করে ফর্ম ৬ জমা দেওয়াকে কোনওভাবেই মিথ্যা তথ্য পেশ বলে গণ্য করা হবে না।

তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ রয়েছে। আবেদনকারীর নাম দেশের অন্য কোনও লোকসভা বা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় থাকা চলবে না। অর্থাৎ, অন্য কোনও কেন্দ্রে নাম বহাল রেখে নতুন করে নাম তোলার আবেদন করা যাবে না। এসআইআরের কাজ চলার সময় কিংবা সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
দিল্লি হাইকোর্টের একটি রায়ের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুধু নির্দেশ জারি করেই থেমে থাকেনি কমিশন। বিষয়টি সম্পর্কে সাধারণ ভোটারদের সচেতন করতে দেশের প্রতিটি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ফলে খসড়া তালিকায় নাম না পেলে কীভাবে ফের ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন জানাতে হবে, সে বিষয়ে ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এখন কমিশনের লক্ষ্য।
এদিকে এসআইআরের কাজের পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন বা SSR প্রক্রিয়া নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে এই বিষয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত হতে পারে খসড়া ভোটার তালিকা। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য দিন ধার্য হয়েছে ১৬ জানুয়ারি।
আরও পড়ুন : ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভারতের প্রশংসা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার! কী জানালেন মহাসচিব?
এই বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসে ফর্ম ৭-এর ব্যবহার নিয়ে আপত্তি। মমতা তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে তার অপব্যবহার হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, একজন ব্যক্তি যদি একই বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করতে পারেন, তাহলে প্রকৃত ভোটারদের নামও সমস্যায় পড়তে পারে। একদিকে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম ফের নথিভুক্ত করার পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের আগামী পর্বে কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।












