বাংলাহান্ট ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারতের (India) প্রস্তুতি এবং আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (World Meteorological Organization)। দ্রুত ও নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মাধ্যমে কীভাবে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ এবং জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব, তার উদাহরণ তৈরি করেছে ভারত। শুধু দেশের মধ্যেই নয়, বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির কাছেও ভারত এখন অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন WMO-র মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো (Celeste Saolo)। তাঁর মতে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হলে সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তারই প্রমাণ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী কীভাবে দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারে, সেই দৃষ্টান্তই তুলে ধরেছে ভারত।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভারতের প্রশংসা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (World Meteorological Organization)!
সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মুরাসুকে কেন্দ্র করে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে সতর্কতা জারি করা হয়। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির কয়েক দিন আগেই একই অঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল আরও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, অর্ণব। পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় এবং বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। WMO-র মহাসচিব এই প্রস্তুতিকেই বিশেষ ভাবে প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, বিপর্যয় আছড়ে পড়ার পর উদ্ধারকাজ শুরু করার পাশাপাশি বিপর্যয়ের আগেই মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ক্ষেত্রে এই দুই দিকেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৭ বছরে ক্ষতি ৪০ বিলিয়ন ডলার! ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফেরাতে চায় পাকিস্তান
সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করে সেলেস্তে সাউলো ভারতের এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে আসার সময়ই প্রশাসন সতর্ক হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে। এর কয়েক দিন আগে একই অঞ্চলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবও দেখা গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সাউলোর বক্তব্য, নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। কারণ, ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, তীব্রতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা পাওয়া গেলে প্রশাসনের হাতে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় থাকে। সেই সময়কে কাজে লাগিয়েই সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
ভারতের এই সাফল্যকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন WMO-র মহাসচিব। তাঁর মতে, ‘আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল’ বা ‘সবার জন্য আগাম সতর্কবার্তা’ কর্মসূচির বাস্তব প্রয়োগের অন্যতম উদাহরণ ভারত। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল, বিশ্বের প্রতিটি দেশের মানুষকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া। কারণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস শুধু ঝড়-বৃষ্টির খবর জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সঠিক সময়ে পাওয়া একটি সতর্কবার্তা কৃষকের ফসল, মৎস্যজীবীদের জীবিকা, উপকূলবর্তী এলাকার সম্পত্তি এবং অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। ভারতের আবহাওয়া দফতর, প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ায় এই ধরনের পদক্ষেপ আরও কার্যকর হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির উন্নতি এবং পূর্বাভাসের নির্ভুলতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সেই তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: iPhone-এর ক্রমবর্ধমান চাহিদা! ভারতে আয়ের রেকর্ড গড়ল Apple, চমকে দেবে পরিসংখ্যান
প্রাকৃতিক বিপর্যয় পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে তার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ভারতের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সেই কথাই আরও একবার সামনে এনেছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি রাখা এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচার করার মতো পদক্ষেপ প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেলেস্তে সাউলোর প্রশংসা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের এই অগ্রগতিকে নতুন স্বীকৃতি দিল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্য দেশগুলিও যদি একই ধরনের প্রস্তুতি গড়ে তুলতে পারে, তবে বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো অনেকটাই সম্ভব হবে (World Meteorological Organization)।












