মানত করলেই মেলে চাকরি? বাঁকুড়ার ‘সার্ভিস কালী’ মন্দিরের মাহাত্ম্য জানলে অবাক হবেন

Published on:

Published on:

Know the Significance of the ‘Service Kali’ temple in Bankura

বাংলা হান্ট ডেস্ক : মা কালীর মাহাত্ম্যের কথা শোনা যায় নানা জায়গায়। গড়ে ওঠে বিশ্বাস। এমনই এক জাগ্রত কালী মন্দির রয়েছে বাঁকুড়ায়। সব সমস্যার সমাধানের আশায় বাঁকুড়ার এই কালীমন্দিরে ভিড় জমান বহু মানুষ। তাঁদের বিশ্বাস, দেবীর কাছে প্রার্থনা জানালে কর্মসংস্থানের পথ খুলে যায়, এমনকি সরকারি কাজের বাধাও দূর হয়। কোনও প্রচলিত নাম নয়, ভক্তদের মুখে মুখে এই দেবীর পরিচয় হয়ে উঠেছে ‘সার্ভিস কালী’। মন্দিরের এই বিশেষ নামের পিছনেও রয়েছে একটি পুরনো কাহিনি।

বাঁকুড়ার (Bankura) এই মন্দিরের মা কালীর মাহাত্ম্য কী ?

সোনামুখী পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই মন্দির। বাঁকুড়া শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। স্থানীয় এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে মন্দিরটির পরিচিতি পৌঁছে গিয়েছে আশপাশের বিভিন্ন জেলাতেও। চাকরির প্রত্যাশী বহু মানুষ এখানে পুজো দিতে আসেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের আশায় দেবীর কাছে মানত করেন তাঁরা। শুধু চাকরি নয়, সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কোনও কাজের নিষ্পত্তি চেয়েও অনেকে প্রার্থনা জানান।

Know the Significance of the ‘Service Kali’ temple in Bankura

মন্দিরের নামের সঙ্গে বাস পরিষেবার একটি ঘটনার যোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। তাঁদের কথায়, একসময় সোনামুখীর কয়েকজন বাসিন্দা বাস সার্ভিস চালানোর অনুমতি বা লাইসেন্স পেতে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় পড়েছিলেন। বারবার চেষ্টা করেও তাঁরা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত দেবীর কাছে এক টাকা বা ষোলো আনা দিয়ে মানত করেন ওই ব্যক্তিরা। স্থানীয়দের দাবি, এরপর তাঁদের বাস পরিষেবা চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার সমস্যা মিটে যায়। এই ঘটনাকেই অনেকে দেবীর মাহাত্ম্যের প্রমাণ হিসেবে দেখেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ‘সার্ভিস কালী’ নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন :একাধিক স্ত্রী থাকলে আর থাকবে না চাকরি! সরকারি কর্মীদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

বর্তমানে মন্দিরে আসা ভক্তদের প্রার্থনার পরিধি আরও বিস্তৃত। কেউ চাকরির পরীক্ষায় সাফল্য চান, কেউ আবার কর্মজীবনে নতুন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রশাসনিক বা সরকারি স্তরে কোনও কাজ আটকে থাকলেও দেবীর কাছে মানত করেন অনেকে। ভক্তদের বিশ্বাস, তাঁদের মনের ইচ্ছা পূরণ হলে দেবীর কাছে ফিরে এসে কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত।

সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে সোনা ও রুপোর অলঙ্কার নিবেদন। মন্দিরের বিগ্রহে থাকা বিভিন্ন মূল্যবান গয়না ভক্তদের দেওয়া উপহার। কোনও বিশেষ পুজো বা তিথির অপেক্ষায় থাকেন না ভক্তরা। মানুষের এই বিশ্বাসই সোনামুখীর ‘সার্ভিস কালী’ মন্দিরকে পরিচিতি দিয়েছে। দেবীর কাছে মানত পূরণের যে কাহিনি ভক্তদের মুখে মুখে ঘোরে, তা-ই আজ এই মন্দিরের আকর্ষণের অন্যতম কারণ।