বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য জুড়ে উৎসবের মরশুম চলছে। দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজোর পর এবার কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোর পালা। সেই সঙ্গেই আসছে ছটপুজো (Chhath Puja)। এবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানালেন, পরিবেশের সুরক্ষার দিকে নজর রেখে ও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রবীন্দ্র সরোবরে ফের ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।
পুণ্যার্থীদের সুবিধায় পরপর ঘোষণা অগ্নিমিত্রার | (Agnimitra Paul)
কয়েকদিন আগেই রবীন্দ্র সরোবরের জল পিউরিফাই করার পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী। এবার সেখানে পুনরায় ছটপুজো চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এর আগে তো এখানে (রবীন্দ্র সরোবর) ছটপুজো করতে দেওয়া হত না। এবার আমরা করতে দেব ভাবছি। কেন করতে দেব না? ওখানকার মানুষরা কোথায় ছটপুজো করবেন?”

রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়া হলেও পরিবেশের অবহেলা যে হবে না, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি জানান, জলে নেমে পুজো করে সঙ্গে সঙ্গে যাবতীয় সামগ্রী তুলে নিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ CBI-এর মামলায় জামিন পেলেও ED স্ক্যানারে সন্দীপ! আরজি কর দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষকে তলব
এদিকে সূত্রের খবর, ছটপুজোর জন্য রবীন্দ্র সরোবরে চার পাঁচটি অস্থায়ী ঘাট তৈরি করার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও সেটা কীভাবে সম্ভব, সেটা নিয়ে কেএমডিএ ইঞ্জিনিয়াররা নিজেরাই ধন্দে রয়েছেন।
অন্যদিকে ছটপুজোর জন্য জলভাগ যাতে কিছুতেই দূষিত না হয় এর জন্য একগুচ্ছ গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এবার সব পুকুর, লেক, গঙ্গার ঘাটে ছটপুজো হবে। ছটের পুণ্যার্থীদের জন্য পুকুরগুলিতে পেভার ব্লক দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা বানানো হবে। সব ঘাটে বায়ো টয়লেট ও চেঞ্জিং রুম থাকবে।“
এছাড়া অগ্নিমিত্রা জানান, সূর্যোদয়ের আগে ছটপুজোর নিয়মের কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। দিক নির্দেশনায় বিভিন্ন এলাকায় টাঙানো থাকবে সাইনবোর্ড। কোনও ধরণের জরুরি পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়ার জন্য ঘাটগুলিতে এমারজেন্সি নম্বর দেওয়া থাকবে। সিভিক ভলেন্টিয়ারদের দেখতে হবে একসময়ে প্রচুর মানুষ যেন জলে না নামেন। একদল পুণ্যার্থী পুজো সেরে জল থেকে ওঠার পরেই আরেকদল নামতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ২০১৭ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ করা হয়েছিল। এবার সেখানেই ফের পুজো চালুর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টিও জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা।












