ভূত চতুর্দশীতে খাওয়ার নিয়ম, ১৪ শাক আসলে কী কী জানেন? গুণাগুণই কী?

Published on:

Published on:

বাংলাহান্ট ডেস্ক : আগামী ৭ নভেম্বর, শনিবার ভূত চতুর্দশী। বাঙালির হ্যালোউইন নামে এখন চর্চিত হলেও বহুকাল ধরে এদিন নির্দিষ্ট কিছু রীতিনীতি মেনে আসা হয়। দুপুরে ১৪ শাক খাওয়া আর সন্ধ্যাবেলায় ১৪ প্রদীপ জ্বালানো, বাঙালি সংষ্কৃতিতে ভূত চতুর্দশী (Kalipujo 2026) মানেই এই দুই রীতি পালন করতেই হবে। কিন্তু ১৪ শাকের মধ্যে কী কী থাকে তা কি জানেন?

ভূত চতুর্দশীতে (Kalipujo 2026) খাওয়া ১৪ শাক আসলে কী?

বাঙালি হেঁশেলে শাকপাতার অভাব নেই। কিন্তু ভূত চতুর্দশীর স্পেশ্যাল ১৪ শাকের মধ্যে রয়েছে কোনগুলি? পঞ্জিকা অনুযায়ী এই ১৪ রকমের শাক হল ওল শাক, কেঁউ শাক, বেতো শাক, সর্ষে শাক, কালকাসুন্দে পাতা, নিম পাতা, জয়ন্তী পাতা, শাঞ্চে শাক, হিঞ্চে শাক, পলতা পাতা, শৌলফ পাতা, গুলঞ্চ শাক, ভাট পাতা এবং শুষনি শাক। ঋতু পরিবর্তনের সময় ১৪ শাক খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। এই প্রতিটি শাকের রয়েছে আলাদা আলাদা গুণ।

What are the benefits of 14 shaak in kalipujo 2026

কী গুণ রয়েছে: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, মরসুমি সর্দি কাশির হাত থেকে রক্ষা করে ওল শাক। মুখের অরুচি দূর করে, পরিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এই শাক। কৃমির সমস্যা দূর করতে, খিদে বাড়াতে সাহায্য করে কেঁউশাক। বেতো শাক লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এছাড়াও ক্ষুধামন্দা, কৃমি, অর্শের সমস্যা দূর করে এই শাক। সর্ষে শাক শুধু সুস্বাদু নয়, রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন : কালীপুজোর মণ্ডপে বিশেষ ‘স্প্রে’, চোরবাগানের পর বাড়তি সতর্কতা পুলিশ-দমকলের

কী রোগ সারায়: ১৪ শাকের (Kalipujo 2026) অন্যতম কালকাসুন্দে পাতার সর্দি জ্বরের ওষুধ। এছাড়া অ্যালার্জি সহ ত্বকের যেকোনো সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয় এই পাতা। মধুমেহ, পেটের রোগ সারাতে, ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনে নিমপাতা। মরসুমি সর্দিকাশিতে, বন্ধ নাক, মাথা ভারের সমস্যায় কাজে লাগে জয়ন্তী পাতা। মালঞ্চ বা শাঞ্চে শাক পেট ঠাণ্ডা রাখে। এই শাকে রয়েছে প্রচুর ফাইবার। রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে মালঞ্চ শাক।

আরও পড়ুন : উৎসবের মরশুমে মহার্ঘ্য ঘি-মাখন, একধাক্কায় বাড়ল দাম, মাথায় হাত মধ্যবিত্তের

আয়ুর্বেদ মতে, হিলঞ্চ বা হিঞ্চে শাক রক্তশোধক এবং ক্ষুধাবর্ধক। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায় হিঞ্চে। পটল তো সকলেই খান। পটলের পাতা হল পলতা পাতা। খিদে ও হজমশক্তি বাড়ায় এই পাতা। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে তিক্ত স্বাদের এই পাতা। চোখের সংক্রমণ, পুরনো ক্ষত সারায় শৌলফ পাতা। শিশুদের পেটের গণ্ডগোলেও দেওয়া হয় এই পাতা। মধুমেহ, জন্ডিস, পেটের আলসার সারায় গুলঞ্চ শাক। ভাট পাতার রস বাতের ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, বদহজমে উপকারী। অন্যদিকে শুষনি শাক চর্মরোগ, মাউথ আলসার, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানির মতো রোগ নিরাময়ে উপকারী।