বিধায়ক পদ খারিজের লড়াইয়ে নয়া মোড়! কালীঘাট তৃণমূলকে হাই কোর্টে পাঠাল শীর্ষ আদালত

Published on:

Published on:

supreme court regarding the case of cancellation of 10 mlas

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই এবার নতুন করে আইনি পথে। বিধানসভায় কার নেতৃত্বে চলবে দল, তা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিরোধ অনেক দিন ধরেই প্রকাশ্যে। এবার সেই সংঘাতের জেরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম-সহ ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) পৌঁছেছিল কালীঘাটের শিবির। কিন্তু সেখানে প্রত্যাশিত সাড়া পেল না মামলাকারীরা। সরাসরি শুনানিতে না গিয়ে তাঁদের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?

কালীঘাট শিবিরের হয়ে এই মামলা দায়ের করেছিলেন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আবেদনে মোট ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। অভিযোগ, নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়েও পরবর্তী সময়ে তাঁরা দলের নেতৃত্বের বিরোধিতা করে পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের পদ বাতিলের আর্জি নিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছেও গিয়েছিল কালীঘাট শিবির।

supreme-court-regarding-the-case-of-cancellation-of-10-mlas

কিন্তু দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শোভনদেব। এই মামলার তালিকায় রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, অরূপ রায়, শিউলি সাহা, আখতারুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র এবং জাভেদ আহমেদ খান। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই বিধায়কেরা ঋতব্রতর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পৃথক গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন বলে দাবি কালীঘাটের। অন্যদিকে, নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ ঋতব্রতপন্থীরা।

আরও পড়ুন : লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীলাভ! ৪৬ লক্ষ অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ২ হাজার টাকা, কৃষক সম্মান নিধির সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

প্রসঙ্গত, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই দুই শিবিরের মতবিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দিয়েছিল কালীঘাটের নেতৃত্ব। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকার করেন ঋতব্রত অনুগামী বিধায়কেরা। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন তাঁরা। পাশাপাশি নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা বিরোধিতা চালিয়ে যাচ্ছে মমতা-অনুগামী শিবির।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও এই বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছিল, দলত্যাগবিরোধী আইনে কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লে স্পিকারের তিন মাসের মধ্যে তার নিষ্পত্তি করা উচিত। সেই অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিল আদালত।

আরও পড়ুন : ভূত চতুর্দশীতে খাওয়ার নিয়ম, ১৪ শাক আসলে কী কী জানেন? গুণাগুণই কী?

উল্লেখ্য, স্পিকারের কাছে কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ জমা পড়েছিল ৮ জুলাই। ফলে ৮ অক্টোবরের মধ্যেই তিন মাসের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও কোনও পদক্ষেপের খবর না মেলায় ফের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় মামলাকারীরা। এবার অবশ্য প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানাতে হবে। শুধু তাই নয়, মামলাটি যাতে দীর্ঘদিন ঝুলে না থাকে, সে জন্য দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগেকে অনুরোধও করেছেন তিনি।

ফলে সুপ্রিম কোর্টের দরজা থেকে আপাতত হাই কোর্টের পথে কালীঘাট তৃণমূল। এবার বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় কত দ্রুত এই বিবাদের নিষ্পত্তি হয়, সেটাই দেখার। ১০ বিধায়কের সদস্যপদ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, তার পাশাপাশি স্পিকার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কি না, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।