বাংলা হান্ট ডেস্ক : স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবদান স্মরণে রাখতে এবার সরকারি দফতরগুলিতে (Government Office)তাঁর ছবি প্রদর্শনের নিয়মে বদল আনছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। শুধু নেতাজির ছবি রাখলেই হবে না, কোন ছবি কোথায় রাখা হবে, তা নিয়েও নির্দিষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিল স্কুলশিক্ষা দফতর।
সরকারি দপ্তরে (Government Office) নেতাজির ছবি রাখার নির্দেশ সরকারের
রাজ্যের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কার্যালয় কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতাজির ছবি রাখার ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের নির্বাচিত একটি প্রতিকৃতিকেই প্রাধান্য দিতে হবে। পরিবারের সদস্যদের পছন্দের ছবিটিই সর্বত্র ব্যবহার করার কথা জানানো হয়েছে। বুধবার স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, পরিবারের তরফে নির্ধারিত ছবিটি যথাযথ সম্মানের সঙ্গে প্রদর্শন করাই সরকারের উদ্দেশ্য। এর আগেই মঙ্গলবার স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীন সমস্ত সরকারি কার্যালয়ে এই সংক্রান্ত নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশিষ্ট স্থানে ওই ছবিটি রাখতে হবে। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ‘অনুমোদিত ছবি’ কথাটির উল্লেখ নিয়েই আপত্তি উঠেছে। শিক্ষকদের একাংশের মতে, নেতাজির মতো জাতীয় ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অনুমোদনের বিষয়টি সামনে আনার অর্থ কী, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন : ১০ হাজার থেকে ১৮ লক্ষ! রাজ্য সরকারি কর্মীদের অগ্রিম টাকা দেওয়ার নিয়ম জানুন
এদিকে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে এই নির্দেশিকার যোগসূত্র নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই নেতাজিকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার এবং এফআইআর দায়েরের ঘটনাও সামনে আসে। ফলে নেতাজিকে ঘিরে রাজ্য সরকারের এই নতুন পদক্ষেপকে নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন না অনেকে।
যদিও শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন। তিনি বলেন, “শুধু ছবি টাঙানো নয়, নেতাজির আদর্শ মেনে সরকারি দফতরে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।” অন্যদিকে, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল নির্দেশিকার শব্দচয়ন নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘অনুমোদিত’ বলে যে ছবিটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি ঠিক কোন ছবি, তা সরকারি তরফে পরিষ্কার করে জানানো হচ্ছে না কেন? ফলে নেতাজির প্রতিকৃতি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের এই নির্দেশিকা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।












