ইস্তফা দিতে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা! সংবিধান মেনে বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল

Published on:

Published on:

A new dramatic turn in West Bengal politics.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নাটকীয় অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল রাজ্য। নতুন সরকার গঠনের আর মাত্র দু’দিন বাকি থাকলেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা ঘিরে টানাপোড়েন অব্যাহত ছিল। বুধবার ছিল বর্তমান সরকারের কার্যকালের শেষ দিন। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা। শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল রবি নারায়ণ রবি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কার্যকাল।

পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়:

রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফার (খ) উপদফা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যপাল। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা একটি সরকারি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী দু’দিন রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব কার্যত রাজ্যপালের তত্ত্বাবধানে চলবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।

আরও পড়ুন: তেল-সাবানের সংস্থাকে কীভাবে উইপ্রোয় পরিণত করলেন আজিম প্রেমজি? চমকে দেবে সেই সফর

এদিকে ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই ইস্তফা প্রসঙ্গে একাধিকবার ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বারবার দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস আসলে হারেনি, বরং “১০০টি আসন লুঠ করা হয়েছে”। সেই কারণেই তিনি পদত্যাগ করতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। তাঁর এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক অন্দরমহল, সর্বত্রই জোর বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মানতে চাইছেন না বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী।

অন্য দিকে, নতুন সরকারের শপথগ্রহণকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী শনিবার রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। জনতার উপস্থিতিতেই ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর পথচলা শুরু হবে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের। রাজনৈতিক গুরুত্বের নিরিখে এই অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

A new dramatic turn in West Bengal politics.

আরও পড়ুন: তেল-সাবানের সংস্থাকে কীভাবে উইপ্রোয় পরিণত করলেন আজিম প্রেমজি? চমকে দেবে সেই সফর

নিরাপত্তার দিক থেকেও কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে গোটা ব্রিগেড চত্বরকে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হচ্ছে। মঞ্চ ও ভিআইপি জোনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে এসপিজি এবং কলকাতা পুলিশ। অন্যদিকে, ব্রিগেডের বাইরে ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সব মিলিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) এখন নতুন সরকারের সূচনার অপেক্ষায়।