বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে এবার তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বিধায়কদের স্বাক্ষরসহ একটি রেজোলিউশন বইয়ের নথি সামনে আসার পর থেকেই একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল সিআইডি। বৈঠকের তারিখ, স্বাক্ষরের ধরন এবং নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় বিষয়টি এখন সিআইডির তদন্তে।
সই কান্ডে অভিষেককে (Abhishek Banerjee) ঘিরে পদক্ষেপ
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের একটি রেজ়োলিউশন বইয়ে ধারাবাহিকভাবে ৭০ জন বিধায়কের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর নথিভুক্ত রয়েছে। অভিযোগ উঠছে, যাঁদের নাম ওই নথিতে রয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন দাবি করেছেন যে তাঁরা সংশ্লিষ্ট দিনে ওই কাগজে স্বাক্ষরই করেননি। প্রসঙ্গত, কালীঘাটে অনুষ্ঠিত তৃণমূলের বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। তবে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ এবং বিধানসভায় জমা দেওয়া নথির তারিখের মধ্যে অমিল রয়েছে।
বিধানসভায় পাঠানো সংশ্লিষ্ট চিঠিতে ৬ মে তারিখ উল্লেখ করা হলেও দলীয় বৈঠকটি হয়েছিল ১৯ মে। এই অসঙ্গতিই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন বিধায়ককে ঘিরে বিশেষভাবে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। নথি খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা লক্ষ্য করেছেন, কোথাও নাম বড় হাতের অক্ষরে লেখা, কোথাও ছোট হাতের অক্ষরে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাক্ষরের বদলে সংক্ষিপ্ত সই ব্যবহার করা হয়েছে।
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন বিধায়ক জানিয়েছেন, ৬ মে তাঁরা কোনও রেজোলিউশন বুকে সই করেননি। সেই কারণেই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাঁদের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কেউ স্বাক্ষর করেছে কি না। একইসঙ্গে এই কাজের নেপথ্যে কার নির্দেশ ছিল, তাও জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে আগামী ৮ জুন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নথিভুক্ত করতে চায় সিআইডি। কারণ, বিধানসভায় জমা দেওয়া ওই চিঠিটি তাঁর প্যাড ব্যবহার করেই পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
অন্যদিকে, স্বাক্ষর সংক্রান্ত সত্যতা যাচাই করতে বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, শুভাশিস দাস ও অরূপ রায়ের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের সূচনা হয়েছে। এ দিন বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে ঋতব্রত বলেন, “এখন তো ‘ব্যাক–ডেটেট’ সই কালচার হয়ে গিয়েছে। এটা তৃণমূলের নতুন কর্পোরেট স্টাইল। দেখছি অনেকের ক্যাপিটাল লেটারে নাম লেখা রয়েছে। সেদিন একজন বিধায়ক বাড়ি থেকেই বেরোননি। তাঁর নামেও সই হয়ে গিয়েছে। আমরা রেজ়োলিউশনে সই করিনি, অ্যাটেন্ডেন্স খাতায় সই করেছিলাম। এটা বলতে পারি, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন দেখলে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

আরও পড়ুন : গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারিতে দেরি? কবে এবং কোথায় অভিযোগ করবেন জানুন
এদিকে তদন্তে আরও একটি তথ্য উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরের পাশে এমন একটি তারিখ রয়েছে, যা বৈঠকের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ফলে এই বিষয়েও তাঁর কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।সিআইডি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই একাধিক নথি ও স্বাক্ষরের নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন নথির বৈধতা ও স্বাক্ষরগুলির সত্যতা যাচাই করাই তদন্তের প্রধান লক্ষ্য। ফরেন্সিক রিপোর্ট, বিধায়কদের বয়ান এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য সামনে এলে এই বিতর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল। গোটা ঘটনার দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরের।













