বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের (West Bengal) একাধিক সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে কর্মরত কয়েকজন তৃণমূলী (Trinamool Congress) শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের চেয়ে দীর্ঘদিন তাঁরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই বেশি সক্রিয় ছিলেন। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির বদলের পর তাঁদের অনেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউ আবার আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়ে সরব হয়েছে এবিভিপি।
রাজ্যের কলেজে অনুপস্থিত তৃণমূলী (Trinamool Congress) শিক্ষক কর্মীরা
নন্দীগ্রামের সীতানন্দ কলেজের স্টেট এডেড কলেজ টিচার (SACT) বাপ্পাদিত্য গর্গের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কলেজে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ব্লক কমিটি পুনর্গঠনের সময় কোর কমিটির সদস্য হন। রাজনৈতিক সংগঠনের হয়ে প্রচার থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কাঞ্চননগর দিদারুদ্দিন হাইস্কুলের সমবায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বোমাবাজির ঘটনায় এনআইএ-র দায়ের করা মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। অভিযোগ, ৪ মে-র পর থেকে তাঁকে আর কলেজে দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে এবিভিপির দাবি, বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর কলেজের দুই স্থায়ী গ্রুপ-ডি কর্মী মহাদেব মাইতি ও সন্দীপ জানাকে ঘিরেও। দু’জনেই দীর্ঘদিন তৃণমূলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মহাদেব মাইতির বিরুদ্ধে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে তাঁকে এবং সন্দীপ জানাকে ভগবানপুরের প্রাক্তন তৃণমূল প্রার্থী মানব পড়ুয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়।
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই দুই কর্মী আর কলেজে যোগ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ। পরে ২ জুন হলদিয়ার ভবানীপুর থানা এলাকার একটি অভিযানে সন্দীপ জানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে মহাদেব মাইতি এখনও অধরা। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন কলেজে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বেতন নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এবিভিপি।

আরও পড়ুন : শান্তিনিকেতনের বাটিক থেকে জনাইয়ের মনোহরা, একসঙ্গে বাংলার ১২ টি পণ্য পেল জিআই স্বীকৃতি
এবিভিপি ছাত্র সংগঠনের নন্দীগ্রাম কলেজ ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট সায়ন প্রামাণিক বলেন, “বাপ্পাদিত্য কোনো কারণ ছাড়াই কলেজে আসছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ করা উচিত। আমরা এনিয়ে কলেজে ডেপুটেশন দেব।” মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর কলেজের প্রিন্সিপাল স্বপন মিশ্র বলেন, “আমাদের দুই গ্রুপ-ডি কর্মী কলেজে আসছেন না। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।”
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেই দিকেই নজর শিক্ষা মহলের।













