বাংলা হান্ট ডেস্ক : আইনি চাপে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সি (Aditi Munshi)। নির্বাচনী হলফনামায় আয় ও সম্পত্তির তথ্য নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসতেই সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। আদালতের কাছে আগাম জামিন চেয়ে আবেদনও করেছেন অদিতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ অদিতি মুন্সি (Aditi Munshi)
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের রক্ষাকবচ চেয়ে অদিতি মুন্সির পক্ষে তাঁর আইনজীবী জরুরি শুনানির আবেদন জানান। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত আবেদন গ্রহণের অনুমতি দেন। আদালত সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চেই মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীদের নিজেদের আয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অদিতি মুন্সির জমা দেওয়া হলফনামায় সম্পত্তির বিবরণ সম্পূর্ণ নয়।
উল্লেখ্য, অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। সেই কারণেই যে কোনও সময় আইনি পদক্ষেপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূল প্রার্থী। এই বিতর্ক বিরোধীদের হাতেও বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার আদালত অদিতিকে অন্তর্বর্তী স্বস্তি দেয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক শিবিরের।
উল্লেখ্য, ভোটের একদিন আগে অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। অভিযোগে দাবি করা হয়, মনোনয়নপত্রে সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির বক্তব্য, “অদিতি মুন্সির তাঁর মনোনয়নপত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত সম্পূর্ণ তথ্য দেননি।”

আরও পড়ুন : ১৩ বছর হয়নি ভোট! এবার নির্বাচন হাওড়া পুরসভায়, দুর্নীতির তদন্তের ঘোষণাও মুখ্যমন্ত্রীর
তাঁর দাবি ছিল, “অদিতি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর জমি কিনেছিলেন। সেই জমির বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি মনোনয়নপত্রের কোথাও।এমনকি চলতি বছরের ২৫ মার্চ তিনি একটা জমি বিক্রি করেছিলেন, সেই জমির বিক্রয়মূল্যও মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।” ফলে আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই মামলার রায় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।













