বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে বৃহস্পতিবার ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর থেকে দুশ্চিন্তার সাথেই বেড়েছে সংশয়। বিশেষ করে চাকরি বাতিল হওয়ার পর চাকরিহারা শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরাট ধোঁয়াশা। এই আবহে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হবে কীভাবে? এখন মূলত এই নিয়েই তৈরি হয়েছে মহা সংশয়। এরইমাঝে এবার এই ২৬ হাজার চাকরিহারা (SSC Job Cancel) শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে চিঠি দিল রাজ্যের প্রধান শিক্ষকদের (Head Masters) সর্ববৃহৎ সংগঠন এএসএফএইচএম।
২৬ হাজার চাকরি বাতিলের (SSC Job Cancel) পর এবার চাপে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ!
স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা জানাচ্ছেন শিক্ষকদের চাকরি (SSC Job Cancel) থেকে বিতাড়িত করার নির্দেশ এখনও সরকারি কোন স্তর থেকে তাঁরা পাননি। তাছাড়া একসাথে এতজন স্কুল থেকে চলে গেলে পড়াশোনার ওপরেও ব্যাপক প্রভাব পড়বে। পরীক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অনিশ্চয়তা তৈরি হবে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানোর পর সব শিক্ষক স্কুলেও আসছেন না। এখন প্রশ্ন উঠছে, যাঁদের চাকরি বাতিল হল, তাঁরা কি স্কুলে আর আসতে পারবেন না? যদি আসেন তাহলে কি এপ্রিলের বেতন পাবেন? খাতায় কলমে ঠিক কবে থেকে চকারি থাকছে না তাঁদের সেটা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে দেওয়ায় রাতারাতি চাকরি (SSC Job Cancel) হারিয়েছেন ২৫,৭৫২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীরা। কিন্তু সাধারণত এই সমস্ত ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের কাছে সরকারি স্তর থেকে অর্ডার আসতে হয়। সেটা না পাওয়া পর্যন্ত নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এই পরিস্থিতিতে দোটানায় রয়েছে বিদ্যালয়গুলির পরিচালন সমিতির সভাপতিরাও।
আরও পড়ুন: অঙ্ক কষা হাতে বোমা বানালে আটকাতে পারবে তো রাজ্য? চরম হুঁশিয়ারি চাকরিহারা শিক্ষকদের
জানা যাচ্ছে, এই ২৫,৭৫২ জনের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের আর্জি জানিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে চিঠি দেবে এসএসসি (SSC Job Cancel)। তারপর পর্ষদ প্রত্যেক প্রার্থীকে ও স্কুলকে আলাদা ভাবে চিঠি দিয়ে তাঁদের নিয়োগ প্রত্যাহার করবে। তাই এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের হাতে চাকরি বাতিলের চিঠি না আসা পর্যন্ত তাঁরা চাইলে ততদিন স্কুলে আসতেই পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের ওই সময়ের বেতন পেতেও বাধা থাকার কথা নয়।
রাতারাতি এতজন শিক্ষকের চাকরি একসাথে বাতিল হয়ে যাওয়ায় রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোর উপর যে ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে তা আগেই আন্দাজ করেছিল রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে। কোনো জেলায় চাকরি গিয়েছে ৯০০ জনের,তো কোথাও সংখ্যাটা বেড়ে হাজার ছাড়িয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হল, অধিকাংশ স্কুলে চাকরিহারা এই সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ দুষ্কর বিষয় নিয়ে পড়াতেন। অনেকে আবার নিজের দক্ষতা কিংবা আচার-আচরণের জন্য জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন স্কুলে।