জীবিত রয়েছেন খামেনেইর স্ত্রী! মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে কী জানাল ইরানের সংবাদমাধ্যম?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের আবহে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে। ইসরায়েল ও আমেরিকার বিমান হামলায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইর (Ali Khamenei) মৃত্যুর পরই খবর ছড়ায়, তাঁর স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহও হামলায় আহত হয়ে মারা গিয়েছেন। তবে এই দাবি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড় এনেছে ইরানের এক সংবাদমাধ্যম। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, খামেনেইর স্ত্রী জীবিত আছেন এবং তাঁর মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো।

জীবিত আছেন খামেনেইর (Ali Khamenei) স্ত্রী, জানালো ইরানের সংবাদমাধ্যম

এই খবর প্রকাশের পরই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ইরানের একাধিক রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে হামলায় খামেনেইর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। কিন্তু সেই দাবিকে কার্যত খারিজ করে দিয়েছে ফার্স নিউজ, যা ইরানের প্রভাবশালী সামরিক সংগঠন ইসলামিক রিভলিউশনারি গার্ড কর্পসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

আরও পড়ুন:যুদ্ধের আবহে সবকিছুরই বাড়ছে দাম! অথচ হু হু করে সস্তা হচ্ছে ডিম, চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

এই বিতর্কের মাঝেই সামনে আসে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইর তাঁর প্রথম সরকারি বিবৃতিতে বাবার মৃত্যু নিয়ে কথা বললেও মায়ের বিষয়ে কোনও উল্লেখ করেননি। এই নীরবতাই নানা মহলে জল্পনা বাড়িয়ে দেয়। অনেকে মনে করেন, যদি তাঁর মা সত্যিই নিহত হতেন, তবে নতুন নেতার বক্তব্যে সেই বিষয়টি উল্লেখ থাকারই কথা ছিল।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইর নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তার পরের কয়েক দিনে বিভিন্ন সূত্রে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে ওই হামলায় তাঁর স্ত্রীও প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু ফার্স নিউজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ সুস্থ আছেন এবং তাঁর মৃত্যুর খবর ভিত্তিহীন।

Ali Khamenei's wife is alive, declared by Iran.

আরও পড়ুন: সিনেমা-সিরিজের পাইরেসি রুখতে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের! Telegram-কে দেওয়া হল বড় নির্দেশ

মানসুরেহ খোজাস্তেহ ইরানের এক ধর্মীয় ও রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন দেশের এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। ১৯৬৪ সালে তিনি তরুণ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনিকে বিয়ে করেন। তাঁদের ছয় সন্তান রয়েছে—চার ছেলে এবং দুই মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে রয়েছেন মোজতবা, মুস্তাফা, মাসুদ ও মাইসাম এবং মেয়েরা হলেন বোশরা ও হোদা। বর্তমানে তাঁদের বড় ছেলে মোজতবা খামেনেইর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।