বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম ফিলাপ। আর সেই ফর্ম নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। কারণ, ১২ পাতার এই ফর্মে শুধু আবেদনকারীর তথ্য নয়, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নাম, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সম্পর্কের তথ্য পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে। কেন এত বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই এবার মুখ খুললেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময় বহু অনিয়ম হয়েছে বলেই এবার শুরু থেকেই কড়া যাচাই করতে চাইছে নতুন সরকার।
অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) ফর্মে কেন এত তথ্য?
অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আবেদন ফর্ম প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ১২ পাতার এই ফর্মে আবেদনকারীর পরিবারের কর্তার নাম, জন্মতারিখ, আধার নম্বর, রেশন কার্ডের তথ্য, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পরিচয়, আবেদনকারীর সঙ্গে সম্পর্ক, আধার নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও আইএফএসসি কোডও জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই নিয়ে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলতেই পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, গত ১৫ বছরে বহু পুরুষও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন, যদিও সেই প্রকল্প মূলত মহিলাদের জন্য ছিল। সরকারের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবেই আগে এই তথ্য যাচাই করা হয়নি। বুধবার অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম প্রকাশের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল আমলে বহু পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়েছেন এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণও সরকারের হাতে রয়েছে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়।
অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, সংখ্যালঘু পুরুষ ও বহিরাগতদের একাংশও আগের প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। অথচ এই টাকা সাধারণ মানুষের করের টাকায় চলে। তাই এবার সরকার চাইছে, প্রকৃত উপভোক্তার হাতেই সরকারি সুবিধা পৌঁছোক। তিনি আরও জানান, আপাতত আবেদনকারীর আয়কর সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও সমস্ত ডেটা একসঙ্গে সংগ্রহ করতে চাইছে সরকার।
অগ্নিমিত্রা পালের স্পষ্ট বার্তা, ফর্মে কোনও ভুল বা অসত্য তথ্য দিলে পরে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। কারণ, এই তথ্যের ভিত্তিতেই যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হবে। সরকারের দাবি, যাঁদের ইনকাম ট্যাক্স ফাইল নেই এবং প্রকৃত অর্থেই আর্থিকভাবে দুর্বল, তাঁরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। আবেদনকারীর তথ্যই মূলত যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ নবান্নে এখনও অসম্পূর্ণ টিম! কেন ৪২ দপ্তর একাই চালাচ্ছেন শুভেন্দু? প্রকাশ্যে বড় তথ্য
এদিকে, আগামী ৩ জুন নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ থেকে ছয় জনকে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) সুবিধা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেখান থেকেই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে বলে সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে।













