বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতেও। এই পরিস্থিতিতে চরম চাপে পড়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। জ্বালানির সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে ওঠায় বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই আবহেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশের সরকার। দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাঙ্ক এবং বাজারের সময়সূচিতে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জ্বালানি সংকটে অফিস-বাজারের সময় বেঁধে দিল বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার থেকে বাংলাদেশে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কাজের সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। আগে যেখানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ চলত, এখন তা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা করা হয়েছে। এই নতুন সময়সূচি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি, আগের মতোই শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হিন্দুকুশ পেরিয়ে রেললাইন! ইরান যুদ্ধের মাঝেই ‘লটারি’ পেতে চলেছে পাকিস্তান?
ব্যাঙ্কিং পরিষেবাতেও একই ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, তফসিলি ব্যাঙ্কগুলির খোলার সময় অপরিবর্তিত থাকলেও লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। এখন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যাঙ্ক খোলা থাকলেও গ্রাহকদের লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ৩টা পর্যন্ত। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।
অন্যদিকে, দোকানপাট ও শপিং মলের সময়সূচিও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলা রাখা যাবে। বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা স্বাভাবিক রাখা যায়।

আরও পড়ুন:সিনেমার মতো বাস্তবেও রয়েছে অনেক ধুরন্ধর! বিশ্বের সেরা ৫ গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় ভারত কত নম্বরে?
তবে এই নতুন নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে জরুরি পরিষেবাগুলিকে। হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যম, বিদ্যুৎ, জল, গ্যাস, দমকল, বন্দর, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা—এই সব ক্ষেত্র আগের মতোই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকারের আশা, এই সময়সীমা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং চলমান সঙ্কটের মোকাবিলা করা যাবে।












