বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারত-সহ একাধিক দেশের অর্থনীতিতে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ বেড়ে চলেছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেই যেন অপ্রত্যাশিত সুযোগের মুখ দেখছে পাকিস্তান (Pakistan)। কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মধ্য এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রকল্পে নিজেদের যুক্ত করতে চাইছে ইসলামাবাদ, যা সফল হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান যুদ্ধের মাঝেই লাভের মুখ দেখতে চলেছে পাকিস্তান (Pakistan)?
এই সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ উজ়বেকিস্তান। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর স্বাধীনতা পাওয়া এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে রয়েছে। স্থলবেষ্টিত হওয়ায় তাদের পণ্য পরিবহণে নির্ভর করতে হয় রাশিয়া বা চিনের উপর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিকল্প পথের সন্ধানে ‘ট্রান্স আফগান রেলওয়ে’ নামে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প সামনে এনেছে তাসখন্দ প্রশাসন, যার মাধ্যমে সরাসরি পাকিস্তানের সমুদ্রবন্দরে পৌঁছনো যাবে।
আরও পড়ুন: অ্যাপলের চাকরি ছেড়ে অটোচালক! জীবনে ‘সাফল্য’র নতুন সংজ্ঞা লিখলেন বেঙ্গালুরুর রাকেশ
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উজ়বেকিস্তানের টার্মেজ় থেকে শুরু হয়ে আফগানিস্তানের মাজ়ার-ই-শরিফ, কাবুল হয়ে এই রেললাইন পাকিস্তানে প্রবেশ করবে এবং শেষ পর্যন্ত করাচি বা গ্বদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহরে পৌঁছবে। প্রায় ৬৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ বাস্তবায়িত হলে মধ্য এশিয়ার দেশগুলির জন্য নতুন বাণিজ্য পথ খুলে যাবে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৬০ কোটি ডলার, যদিও তা পরে বেড়ে ৭০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে এই প্রকল্পের পথে বাধাও কম নয়। আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, বিশেষ করে হিন্দুকুশ পর্বতমালার উপর দিয়ে রেললাইন বসানো অত্যন্ত কঠিন এবং ব্যয়বহুল। ৩,৫০০ মিটার উচ্চতায় রেলপথ নির্মাণ, অসংখ্য সেতু ও সুড়ঙ্গ তৈরির প্রয়োজনীয়তা প্রকল্পটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত, সীমান্ত সমস্যা এবং জঙ্গি কার্যকলাপও এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা! কলকাতায় বোমা ফেলার ‘টার্গেট’ করছে পাকিস্তান
ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও এই প্রকল্পে বড় ভূমিকা নিতে পারে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই বিকল্প বাণিজ্য করিডর তৈরির চেষ্টা করছে এবং এই প্রকল্পে তাদের আগ্রহ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যেও এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে, ‘ট্রান্স আফগান রেলওয়ে’ সফল হলে পাকিস্তানের (Pakistan) র্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে, কিন্তু তার আগে বহু চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।












