অ্যাপলের চাকরি ছেড়ে অটোচালক! জীবনে ‘সাফল্য’র নতুন সংজ্ঞা লিখলেন বেঙ্গালুরুর রাকেশ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজকের দিনে সাফল্যের (Success Story) সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। অধিকাংশ মানুষের কাছে সাফল্য মানেই মোটা বেতন, কর্পোরেট জগতের প্রভাব এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন। তবে এই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা রাকেশ বি পাল। একসময় নামী সংস্থা অ্যাপল ইনক-সহ বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কাজ করা এই ব্যক্তি আজ নিজের ইচ্ছায় অটোচালক। তাঁর এই সিদ্ধান্ত শুধু পেশা পরিবর্তন নয়, বরং আত্ম-অন্বেষণের এক সাহসী যাত্রা।

রাকেশের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

রাকেশের কর্মজীবনের শুরুটা ছিল অনেকের স্বপ্নের মতো। প্রযুক্তি সংস্থায় উচ্চ বেতন, আরামদায়ক জীবন—সবই ছিল তাঁর নাগালে। পরবর্তীতে তিনি একাধিক বড় ব্যাংক এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে তিনি ক্রমশ নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলেন। তাঁর মনে হতে থাকে, কর্পোরেট দুনিয়ায় মানুষ কেবলই একটি ‘যন্ত্রাংশ’। অন্যদের খুশি রাখার চেষ্টায় তিনি নিজের ইচ্ছা, আনন্দ এবং পরিচয় ভুলে যেতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: সিনেমার মতো বাস্তবেও রয়েছে অনেক ধুরন্ধর! বিশ্বের সেরা ৫ গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় ভারত কত নম্বরে?

সমস্যা শুধু পেশাগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকেনি, ব্যক্তিগত জীবনেও তার প্রভাব পড়ে। পারিবারিক ও দাম্পত্য চাপ তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হতে হয় ন্যাশনাল  ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ এন্ড  নিউরোসাইন্স-এ। দীর্ঘদিন  অ্যান্টি ডিপ্রেশন ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। নিজেকে চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি করে ফেলেছিলেন, যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময় হয়ে ওঠে।

এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে রাকেশ নিজের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনেন। মনোবিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে তিনি নিজের সমস্যার উৎস বুঝতে চেষ্টা করেন। শারীরিক শৃঙ্খলা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মার্শাল আর্ট—বিশেষ করে মুয়াই থাই ও জু-জিতসু, চর্চা শুরু করেন। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রমের ফলও মেলে, রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় রৌপ্য পদক জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, মানসিক শান্তিই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

Rakesh's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: জ্বালানি সঙ্কটে বড় ঘোষণা সরকারের, ফ্রি করে দেওয়া হল সমস্ত গণপরিবহণ

পুনর্গঠনের এই দীর্ঘ পথে রাকেশ কোনও কাজকেই ছোট করে দেখেননি। খাবার ডেলিভারি, বাইক ট্যাক্সি চালানো থেকে শুরু করে জিম পরিষ্কার—সবই করেছেন তিনি। অবশেষে চার বছরের লড়াইয়ের পর আজ তিনি বেঙ্গালুরুর রাস্তায় নিজের ইলেকট্রিক অটো চালান। অবসর সময়ে ছবি আঁকা ও নাচের মতো শখ চর্চা করেন। তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করে, প্রকৃত সাফল্য (Success Story) উচ্চপদ বা অর্থে নয়, বরং নিজের পছন্দমতো জীবনযাপন এবং মানসিক শান্তি অর্জনের মধ্যেই নিহিত।