বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের (India Day) প্রাক্কালে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সম্মান জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটস (Masachusetts) ও বস্টন (Boston)। রাজ্যের গভর্নর মৌরা হিলি ১৫ আগস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্ডিয়া ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে শুধু ভারতের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক তাৎপর্যকেই স্মরণ করা হয়নি, বরং দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসা ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের অবদানকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, শুধু ম্যাসাচুসেটসই নয়, বস্টনেও ১৫ আগস্টকে ‘ইন্ডিয়া ডে’ হিসেবে পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে এবারের উদযাপন আরও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
১৫ অগাস্টকে ‘ইন্ডিয়া ডে’ (India Day) ঘোষণা আমেরিকার অঙ্গরাজ্যের
গভর্নর মৌরা হিলি তাঁর ঘোষণায় বলেন, ম্যাসাচুসেটসে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা বহু বছর ধরে রাজ্যের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং ব্যবসার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অসামান্য সাফল্য রাজ্যের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করেছে। তাঁর মতে, ভারতীয়দের কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ম্যাসাচুসেটসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রাজ্যের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশকে আরও বৈচিত্র্যময় এবং সমৃদ্ধ করে তুলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: গাড়ির ইন্স্যুরেন্স না থাকলে মিলবে না পেট্রোল-ডিজেল? কেন্দ্রকে ভাবনাচিন্তার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় সাড়ে ৩ কোটিরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। তাঁদের মধ্যে ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বাস করছেন। চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন পেশার দক্ষ কর্মী হিসেবে তাঁরা আমেরিকার সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে তাঁদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
মৌরা হিলি তাঁর বক্তব্যে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেরও বিশেষ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার দেশ, যেখানে অসংখ্য ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও একটি গভীর ঐক্যের বন্ধন বজায় রয়েছে। এই বহুত্ববাদী ঐতিহ্যই ভারতীয়দের বিশ্বজুড়ে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। সেই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধ আমেরিকার মতো বহুজাতিক সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেই তাঁর অভিমত।

আরও পড়ুন: WhatsApp নয়! সেনাবাহিনীকে চিনের WeChat ব্যবহারের নির্দেশ পাকিস্তানের, কী পরিকল্পনা ইসলামাবাদের?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ আগস্টকে ‘ইন্ডিয়া ডে’ (India Day) ঘোষণা শুধুমাত্র একটি প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের দীর্ঘদিনের অবদানকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। স্বাধীনতা দিবসের আগে এই ঘোষণা ভারত ও আমেরিকার জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনকেও আরও দৃঢ় করার বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে এটি প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে গর্বের মুহূর্ত, কারণ তাঁদের কর্মদক্ষতা, সাফল্য এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি এবার সরকারি স্তরেও প্রতিফলিত হল। ফলে এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ভারত-মার্কিন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

















