বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রথমে নাম শুনলে মনে হতে পারে কোনও ভ্রমণপ্রেমীদের আড্ডা, কিংবা কবিতা-সাহিত্যের কোনও অনলাইন গোষ্ঠী। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, ‘পূর্বের আকাশ’ নামে একটি এনক্রিপ্টেড টেলিগ্রাম (Telegram) চ্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছিল উগ্রবাদী প্রচার, সদস্য সংগ্রহ এবং কথিত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য। পশ্চিমবঙ্গ West Bengal), অসম (Assam) ও কেরালা (Kerala) জুড়ে একটি জঙ্গি নেটওয়ার্কের তদন্ত করতে গিয়ে এই চ্যানেলের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, চ্যানেলটি বাংলাদেশভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
টেলিগ্রামের (Telegram) মাধ্যমে বঙ্গ-সহ ভারতে সন্ত্রাসবাদ ছড়াতে অভিনব পন্থা বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের
এই তদন্তের সূত্র ধরেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে একাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে NIA। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ধৃত চারজন হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের সাহারুল হক পুরকাইত ও শেখ জুম্মান হোসেন, ক্যানিংয়ের আবদুর রফিক এবং পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের পিয়ার মহম্মদ শেখ। তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার মতো অভিযোগে মামলা হয়েছে। UAPA-র ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। কলকাতার বিশেষ NIA আদালতে তাঁদের পেশ করার পর পাঁচ দিনের NIA হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে (Telegram)।
আরও পড়ুন: ৪৮.৫ কিলোনিউটন শক্তি প্রদর্শন! রাশিয়ায় পরীক্ষায় সফল দেশীয় কাবেরি ইঞ্জিন, নতুন নজির ভারতের
তদন্তকারীদের দাবি, ‘পূর্বের আকাশ’ শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হত না। ওই চ্যানেলের মাধ্যমে বৈঠক, উগ্রবাদী সাহিত্য ছড়ানো এবং মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তারের মতো কাজ চলত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সম্ভাব্য সদস্যদের চিহ্নিত করে তাঁদের ধীরে ধীরে উগ্রপন্থী মতাদর্শের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হত বলেও অভিযোগ। তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে—ধৃতদের কয়েকজন নিজেদের পরিচয় আড়াল করে সাধারণ পেশার মানুষ হিসেবে থাকার চেষ্টা করতেন। তাঁদের মধ্যে একজন নিজেকে দর্জি এবং অন্যজন নিজেকে ইমাম হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
NIA-র তদন্ত অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লার তৈরি ‘ইমাম মাহমুদের খিলাফা’ বা IMK-র যোগসূত্র রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, JMB-র মতাদর্শ ছড়ানোর পাশাপাশি ভারতে সংগঠনের ভিত্তি তৈরি এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য অনলাইন মাধ্যমকে কাজে লাগানো হচ্ছিল। এর পাশাপাশি ‘বায়তুল মাল’ নামে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থার মাধ্যমেও সংগঠনের জন্য তহবিল জোগাড় করা হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে শুধু একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল নয়, এর পিছনে থাকা যোগাযোগ, সদস্য সংগ্রহ এবং আর্থিক লেনদেনের পুরো কাঠামো খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন: মুহূর্তের মধ্যে নেমে এল টন টন পাথর! উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে ভয়াবহ ধস, প্রকাশ্যে এল ভিডিও
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি JBM-অফশুটের কথাও NIA আগেই জানিয়েছিল। জুনে সংস্থাটি জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতকে কেন্দ্র করে ওই সংগঠনের কথিত সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এবার ‘পূর্বের আকাশ’ চ্যানেলের সন্ধান মেলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চ্যানেলটির মাধ্যমে কারা যোগাযোগ রাখত, কতজনকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর কোনও আরও বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না—সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে (Telegram)।













