বাংলাহান্ট ডেস্ক: এবার শিশুদের ওপর প্রভাবের কথা ভেবে এবার স্কুল ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করা পথে বিহার (Bihar)। শিশু–কিশোরদের মধ্যে বাড়তে থাকা হিংস্র আচরণ এবং জনস্বাস্থ্যের উপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা নগরোন্নয়ন ও আবাসনমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, কম বয়সের ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ রক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিধান পরিষদের বাজেট অধিবেশনেও বিষয়টি প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল।
বিহারে (Bihar) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মাছ-মাংস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা!
রবিবারের ওই সাংবাদিক বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে, মাছ–মাংস বিক্রি কীভাবে শিশুদের হিংসাত্মক করে তোলে? যদিও সেই প্রশ্নের সরাসরি কোনওরকম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি উপমুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দ্বারভাঙ্গায় সরকারের জনসংযোগ কর্মসূচি ‘জনকল্যাণ সংবাদ’–এ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় স্কুলের সামনে প্রকাশ্যে মাছ–মাংস বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। তাঁদের মতে, এতে শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং নিরামিষভোজীদের জন্যও এই বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই মতামত বিবেচনা করেই গোটা রাজ্যের জন্য এই নিয়ে নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:ব্যর্থতা থেকে ৩৩০০০ কোটি টাকার ব্র্যান্ড! মেহতার হাত ধরে রাজস্ব-মুনাফায় লাফ ক্রিসিলের
সরকারের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, এই নীতি প্রণয়ন করে কারও খাদ্যাভ্যাসের উপর কোনওরকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে না। তবে স্কুল, ধর্মস্থান এবং জনবহুল এলাকার সামনে প্রকাশ্যে মাছ–মাংস বিক্রি করা যাবে না। বিক্রি করতে হবে নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত স্থানে। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে মাংস বিক্রি বন্ধ রেখে কসাইখানা বা ঘেরা জায়গা থেকে বিক্রি করতে হবে। লাইসেন্সধারীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ করা হবে এবং যাঁদের লাইসেন্স নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০০৭ সালের বিহার মিউনিসিপ্যাল আইনের ভিত্তিতেই নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে অন্যদিকে এই নির্দেশিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদেরই অনুমতি দিলে ছোট ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীদের সমস্যা হবে। কারণ এরকম বহু মানুষ আছেন যারা রাস্তায় বসেই মাছ–মাংস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যদিও বিহার সরকার জানিয়েছে, নিয়ম মেনেই বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে এবং ইতিমধ্যেই লাইসেন্স যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে জনস্বাস্থ্যের চেয়ে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব বেশি। তাঁদের দাবি, নীতীশ কুমার নেতৃত্বাধীন সরকার উত্তরপ্রদেশের নীতির অনুসরণ করার চেষ্টা করছেন। যেখানে যোগী আদিত্যনাথ সরকার, ধর্মীয় স্থানের আশপাশে মাংস বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। যদিও বিহারে অধিকাংশ মানুষ আমিষভোজী এবং ‘চম্পারণ মিট’ বিশ্বখ্যাত তাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে যখন শিশুদের হিংসাত্মক আচরণের সঙ্গে মাছ–মাংস বিক্রির সরাসরি সম্পর্কের কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।












