বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রবীণ আইনজীবী ও যাদবপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya) এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তিনি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য হিসেবে প্রাপ্য কোনও পেনশন তিনি গ্রহণ করতে চান না। সংসদীয় রেকর্ডে এই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত সাংসদদের নির্দিষ্ট অঙ্কের পেনশন দেওয়া হলেও, তা স্বেচ্ছায় ত্যাগ করলেন বিকাশরঞ্জন।
রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য হিসেবে পেনশন প্রত্যাখ্যান বিকাশ রঞ্জনের (Bikash Ranjan Bhattacharya):
বর্তমানে সিপিআইএম তাঁকে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে। এর আগে ২০১৯ সালে এই কেন্দ্র থেকেই লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি, যদিও সেই নির্বাচনে মিমি চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন। চলতি নির্বাচনে ফের তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে এবং গত ৮ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মিষ্টির বাজার আগুন, ১০ টাকার মিষ্টি বিকোচ্ছে ১৫ তে! বিপন্ন পয়লা বৈশাখের হালখাতা
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, বিকাশরঞ্জনের আর্থিক অবস্থার একটি বিস্তারিত চিত্র সামনে এসেছে। তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৯১ টাকা। পাশাপাশি স্থায়ী আমানত, পিপিএফ-সহ মোট সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাঁর নামে, যার মধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ তহবিলের একটি অ্যাকাউন্টও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
পরিবারের আর্থিক দিক থেকেও কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর স্ত্রী ইভা ভট্টাচার্যের নামে চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং তাঁর হাতে বর্তমানে নগদ রয়েছে ২২ হাজার ৮৫০ টাকা। গয়নার ক্ষেত্রে তাঁর স্ত্রীর কাছে প্রায় ৬০০ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লক্ষ টাকারও বেশি। এছাড়া ২০১৫ সালে একটি গাড়ি কেনার পর ২০২৫ সালে প্রায় ৭২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি অডি গাড়িও কেনেন বিকাশরঞ্জন, যা বর্তমানে তাঁর ব্যবহারে রয়েছে।

আরও পড়ুন: চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অভাবনীয় আবিষ্কার! ভারতীয় বিজ্ঞানীরা যা খুঁজে পেলেন… জানলে চমকে যাবেন
সম্পত্তির হিসাব অনুযায়ী, বিকাশরঞ্জনের (Bikash Ranjan Bhattacharya) মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৪ কোটিরও বেশি, যেখানে তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি প্রায় ২.৫৭ কোটি টাকা। তবে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে তাঁর নিজের নামে কোনও বাড়ি বা জমি নেই। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর নামে দুটি বাড়ি রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৫ কোটির বেশি। এছাড়া হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, বিকাশরঞ্জনের কাছ থেকে তাঁর স্ত্রী প্রায় ৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। নির্বাচনের আগে তাঁর এই আর্থিক স্বচ্ছতা এবং পেনশন ত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।












