চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অভাবনীয় আবিষ্কার! ভারতীয় বিজ্ঞানীরা যা খুঁজে পেলেন… জানলে চমকে যাবেন

Published on:

Published on:

Unprecedented Discovery at the Moon's South Pole by the ISRO.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: চাঁদের দক্ষিণ মেরু ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে কৌতূহল রয়েছে। ভারতের চন্দ্রযান-৩ অভিযানের সাফল্যের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় আরও বড় সাফল্যের দাবি করলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। ইসরোর (ISRO) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর পৃষ্ঠের নিচেই বিপুল পরিমাণ বরফের ভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অভাবনীয় আবিষ্কার ইসরোর (ISRO)

ভারতীয় গবেষকদের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর উপরিভাগের বেশ কয়েক মিটার নিচেই রয়েছে এই বরফ, যাকে ‘সাবসারফেস আইস’ বলা হয়। এটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, যা ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে। দক্ষিণ মেরুর চির অন্ধকারাচ্ছন্ন অঞ্চল, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেই অঞ্চলেই এই বরফ দীর্ঘদিন ধরে জমে রয়েছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

আরও পড়ুন: ফের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় টান পড়বে পকেটে! দাম বাড়ল একাধিক জনপ্রিয় সাবানের

এই গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে ইসরোর স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এবং IIT কানপুরের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা রাডার ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, চাঁদের পৃষ্ঠের নিচে বরফের পরিমাণ উপরিভাগের তুলনায় অনেক বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে, কয়েক বিলিয়ন বছর ধরে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রার কারণে এই বরফ সংরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে গর্তের নিচে এই বরফের ঘনত্ব বেশি।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বহুমুখী। প্রথমত, এই বরফকে প্রক্রিয়াজাত করে ভবিষ্যতে মহাকাশচারীদের জন্য পানীয় জল এবং অক্সিজেন তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। দ্বিতীয়ত, জলকে ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি করে রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, ফলে চাঁদ ভবিষ্যতে একটি ‘রিফুয়েলিং স্টেশন’ হয়ে উঠতে পারে। তৃতীয়ত, জলের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার বা মানব বসতি গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে।

Unprecedented Discovery at the Moon's South Pole by the ISRO.

আরও পড়ুন: পাশে রয়েছে বন্ধু! ভারতে তেলের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত রাশিয়া, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বিপুল সহযোগিতা

গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা NASA-র LRO-র রাডার তথ্য এবং ইসরোর (ISRO) নিজস্ব চন্দ্রযান মিশনের ডেটা ব্যবহার করেছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তর মেরুর তুলনায় দক্ষিণ মেরুতে বরফের উপস্থিতি অনেক বেশি। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, চাঁদ শুধু একটি নিষ্প্রাণ পাথুরে উপগ্রহ নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্পদে ভরপুর এক সম্ভাবনাময় গন্তব্য। আসন্ন LUPEX অভিযানে এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।