বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করছে বিজেপি (BJP)। তারই অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই প্রকাশিত হতে পারে দলের ইশতেহার। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও মানুষের প্রত্যাশাকে মাথায় রেখে একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
৫ এপ্রিল ইশতেহার প্রকাশ বিজেপির (BJP)
আগামী ৫ এপ্রিল বিজেপির (BJP) ইশতেহার প্রকাশিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে এই ইশতেহারে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিভিন্ন দিককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, এই ইশতেহারে আসন্ন নির্বাচনকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপশাসন, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং প্রশাসনের রাজনৈতিক ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আনা হতে পারে। এমনকি গত ১৫ বছরের শাসন নিয়ে একটি ‘হোয়াইট পেপার’ প্রকাশের কথাও ভাবা হচ্ছে। ‘মাফিয়া রাজ’ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তাও থাকবে।
বড় প্রতিশ্রুতি কী কী?
বিজেপির (BJP) ইশতেহারে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু বড় ঘোষণা থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ সম্পূর্ণ মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসিক ভাতা বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করার কথা বলা হতে পারে। এছাড়া যুবকদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পেও মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসংস্থান ও শিল্প নিয়ে কী ভাবনা?
চাকরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হতে পারে। রাজ্যের সব শূন্যপদ দ্রুত পূরণের কথা বলা হয়েছে। সিঙ্গুরে জমির মালিকদের সম্মতি নিয়ে ১ হাজার একর জমিতে শিল্প পার্ক গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া চারটি বড় শিল্প পার্ক তৈরি, চা ও পাট শিল্পকে নতুন করে শক্তিশালী করা এবং বার্নপুরের ইন্ডিয়ান আয়রন অ্যান্ড স্টিল ও দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের উন্নয়নেও জোর দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও রয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর
পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও একাধিক বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। দামোদর, রায়ঢাক, ভাগীরথী এবং গঙ্গাসাগর এলাকায় নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ উন্নত করা, মালদা ও বালুরঘাট বিমানবন্দর আধুনিকীকরণ এবং রেলের জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের নামে চারটি নতুন শহর গড়ার ভাবনাও রয়েছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি
কৃষকদের জন্য ধানচাষে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হতে পারে বিজেপির (BJP) notun ইশতেহারে। এছাড়া আলুচাষীদের জন্য বিশেষ সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। কোল্ড স্টোরেজ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বাড়ানো, মৎস্যচাষ ও পশুপালন উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় নতুন বাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বছরে মিলবে ৩০০০০! ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ নিয়ে বড় আপডেট দিল রাজ্য সরকার
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠন, পুলিশের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও কিছু উদ্যোগের কথা রয়েছে বিজেপির (BJP) ইশতেহারে। কুর্মালি ও রাজবংশী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি তোলা হতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন এবং বাংলা সিনেমা শিল্পকে নতুন করে চাঙা করার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।












