বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের ঠিক আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। BJP-র তরফে মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকার ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ড (BJP Matri Shakti Bhorsha Card) বিলি শুরু হওয়ায় সরব হয়েছে তৃণমূল। এই কার্ড বিলি আদৌ বৈধ কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে শাসকদল। অভিযোগ, ভোটের আগে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কার্ড বিলি করা আদর্শ আচরণবিধির পরিপন্থী।
বিজেপির মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড (BJP Matri Shakti Bhorsha Card) বিতর্ক
বাংলায় ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছিল BJP। ভোটের প্রচারে এসে সেই প্রতিশ্রুতিকেই আরও জোরালো করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণি নয়, রাজ্যের সব মহিলাকেই এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। যদিও BJP-র নির্বাচনী ইস্তাহারে মূলত নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মহিলাদের কথা বলা হয়েছিল, সেই বিভ্রান্তি কাটিয়ে স্মৃতি ইরানি স্পষ্ট করে এটি বাংলার প্রতিটি মহিলার জন্যই তাঁদের অঙ্গীকার।
শুভেন্দু অধিকারী ও রূপা গাঙ্গুলিকে পাশে নিয়ে ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ডের (BJP Matri Shakti Bhorsha Card) আনুষ্ঠানিক সূচনাও করা হয়। প্রতীকীভাবে কয়েকজন মহিলার হাতে সেই কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় BJP-র মহিলা মোর্চার কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কার্ডের ফর্ম বিলি করা এবং তথ্য সংগ্রহও শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। বিজেপি সূত্রে খবর, ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই ভাতা দেওয়া হবে।
কী অভিযোগ মমতার?
অন্যদিকে, এই পুরো বিষয়টিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে কার্ড বিলি করা মানেই মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা, যা আদর্শ আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। মমতা বলেন, BJP ইতিমধ্যেই টাকা বিলির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং সেইসঙ্গে কার্ড বিলি করছে, যেখানে ভোটের পর টাকা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ দমদমে মমতার গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি? জনসভা থেকে বড় দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
এই ধরনের প্রলোভন (BJP Matri Shakti Bhorsha Card) দেখানো ঠিক নয় বলেই দাবি করেন মমতা এবং নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চান। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে BJP-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। এখন দেখার, কমিশন এই বিতর্কে কী পদক্ষেপ নেয়।












