বিস্মিত বিচারপতি সিনহা! শিক্ষকের করা মামলায় বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

Published on:

Published on:

Calcutta High Court
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ স্কুলের মধ্যে হেনস্থার শিকার খোদ শিক্ষক (Teacher)! অভিযোগ ছিল, স্কুলের ভিতরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁকে মারধর খেতে হয়। হেনস্থা করা হয় স্কুলের ভেতরেই। যার জেরে দীর্ঘদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের এক ইংরেজি শিক্ষকের। এবার হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে অন্ধকার কাটল। শিক্ষকের করা মামলায় তাঁর স্কুলে যাওয়ার দরজা খুলে দিল উচ্চ আদালত।

কী নির্দেশ দিল হাইকোর্ট | Calcutta High Court

শিক্ষকের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ, মামলাকারী শিক্ষক আগামীকাল থেকেই পুনরায় স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। পাশাপাশি গত বছর ১৬ জুলাই স্কুলের ভিতরে মারধরের অভিযোগ নিয়ে কাঁথি মহকুমার অতিরিক্ত স্কুল পরিদর্শককে রিপোর্ট জমা করারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। আদালতের আরও নির্দেশ, ওই শিক্ষক আবার স্কুলে যোগদানের পর কোনও সমস্যা তৈরি হচ্ছে কি না, সে সংক্রান্ত রিপোর্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

কী অভিযোগ?

শিক্ষকের অভিযোগ, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকা, স্টাফ কমন রুমের দাবি, ক্লাস রুটিন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে স্কুলে একাধিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন হন তিনি। এই নিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান। টিচার-ইন-চার্জকে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। তবে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। উল্টে খারাপ হয়েছে।

অভিযোগ, স্কুলের একাধিক সমস্যা নিয়ে সরব হওয়ায় তাঁর সঙ্গে কিছু অতিথি শিক্ষকের সম্পর্ক খারাপ হয়। তাঁদের উপস্থিতিতেই বহিরাগতরা স্কুলেই তাঁকে হেনস্থা ও মারধর করে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন ওই শিক্ষক। একথা শুনে এদিন বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি।

তাঁর আরও অভিযোগ, গত ডিসেম্বর মা থেকে তাঁর বেতনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই নিয়ে স্কুল পরিদর্শক, কাঁথি মহকুমা দফতর এবং থানায় অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁকে যাতে অন্য কোনো স্কুলে বদলি করা হয় স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে সেই আবেদনও জানান মামলাকারী শিক্ষক।

calcutta high court(95)

আরও পড়ুন: অস্বস্তিতে শাসকদল, ব্যারাকপুরে বৃদ্ধ খুনে ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর, ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

এদিকে পাল্টা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির দাবি, ওই শিক্ষককে একাধিকবার স্কুলে নিজের কাজে যোগদান করতে বলার পরও তিনি যোগ দেন নি। আপাতত ওই শিক্ষককে পুনরায় স্কুলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ১০ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি রয়েছে মামলার পরবর্তী শুনানি। সেইদিন আদালত কী নির্দেশ দেয় সেদিকে নজর থাকবে সকলের।