বাংলা হান্ট ডেস্ক : চশমা বিক্রির দোকানেই কি চলছে চোখের চিকিৎসা? শুধু পাওয়ার মাপা বা চশমা দেওয়ার মধ্যে পরিষেবা সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও তার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা চালানোর অভিযোগ উঠছে। এক মামলার শুনানিতে এবার বিষয়টি রাজ্যজুড়ে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
চশমার দোকানে অবৈধ চোখের চিকিৎসা নিয়ে নির্দেশ হাইকোর্টের(Calcutta High Court)
কোন কোন চশমার দোকান বা আই ক্লিনিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চিকিৎসা পরিষেবা চলছে, তা চিহ্নিত করে রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্যকে। বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতের নজরে এসেছে, অপটোমেট্রিস্টদের নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি থাকলেও তাঁদের পেশাগত সীমারেখা অতিক্রম করে চিকিৎসা করা হচ্ছে কি না, সেটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে।
একইসঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা করা অপটোমেট্রিস্ট বা চশমার দোকানের মালিকদের অযথা হয়রানি না করার বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত। এই মামলার সূত্রপাত নদিয়ার শান্তিপুরের একটি আই ক্লিনিককে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, সেখানে থাকা ব্যক্তির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও চোখের চিকিৎসা করার পাশাপাশি ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন সুজিত বিশ্বাস। সেই মামলার শুনানিতেই রাজ্যজুড়ে বেআইনি আই ক্লিনিকের কার্যকলাপ পরীক্ষা করার প্রসঙ্গ সামনে আসে। আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার রাজ্যের পক্ষ থেকে তদন্তের একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সরকারের তরফে জানানো হয়, বিভিন্ন জেলায় বেআইনি আই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান চলছে।
ইতিমধ্যে হুগলিতে এমন একটি ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে FIR দায়ের করে সংশ্লিষ্ট দোকানটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্ট শোনার পর আদালত শুধু বেআইনি আই ক্লিনিক নয়, অপটোমেট্রিস্টদের কাজের বৈধতাও যাচাই করার নির্দেশ দেয়। যাঁরা নিয়ম মেনে চোখের পাওয়ার পরীক্ষা বা অনুমোদিত প্রাথমিক পরিষেবা দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু অনুমোদনের সীমা পেরিয়ে কেউ চিকিৎসা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে বলে জানায় ডিভিশন বেঞ্চ।
মামলাকারীর আইনজীবীরা আদালতে বলেন, “সুজিত বিশ্বাস চোখে আঘাত নিয়ে শান্তিপুর কলেজের পাশে নেত্রদীপ আই ক্লিনিকে দেখান ৷ এই ক্লিনিকের মালিক অরূপ রায় অপটোমেট্রিস্ট নন, অথচ তিনি প্রেসক্রিপশন করে ওষুধ দেন ৷ এরপর চোখের অবস্থার অবনতি হলে, সুজিত বিশ্বাস ফের তাঁর আই ক্লিনিকে যান ৷ তখন তাঁকে দোকান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় ৷ বলা হয় অবহেলার কারণে চোখের অবস্থা খারাপ হয়েছে ৷”
এরপর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয় বলে মামলাকারীর দাবি। পরে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে গেলে আগের দেওয়া ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে আদালতে দাবি করেন মামলাকারীর আইনজীবীরা। অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেছিলেন সুজিত। কিন্তু অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে মামলাকারীর অভিযোগ।শেষ পর্যন্ত সেই কারণেই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। শুনানির সময় মামলাটির প্রাথমিক বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “এখনও গ্রেফতার করা হয়নি ও ব্যক্তিকে ?”

আরও পড়ুন : ৬০ পেরোলেই মিলবে সিনিয়র সিটিজেন কার্ড! কী কী সুবিধা? আবেদন পদ্ধতি জানুন
এদিকে, সংশ্লিষ্ট আই ক্লিনিকের পক্ষ থেকেও আদালতে তাঁদের আইনজীবী জানান, ক্লিনিক্যাল পরিষেবা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং দ্রুত সেই মর্মে নোটিসও ঝোলানো হবে। তবে চশমা বিক্রির ব্যবসা বন্ধ হবে না। স্বাস্থ্য দফতরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স পাওয়ার পরেই ক্লিনিক্যাল পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। আগামী ১১ ডিসেম্বর ফের শুনানি হবে। তার আগে রাজ্যকে বেআইনি আই ক্লিনিক সংক্রান্ত আরও তথ্য-সহ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।













