বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ৬০ পেরোলেই ভারতীয় নাগরিকরা পেতে পারেন সিনিয়র সিটিজেন কার্ড (Senior Citizen Card)। এটি যেমন একদিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি হিসেবে কাজে আসতে পারে। তেমনই এই কার্ডে বেশ কিছু সুবিধাও পাওয়া যায়। সিনিয়র সিটিজেন কার্ডের জন্য আবেদন করতে কী কী নথিপত্র লাগে, কীভাবে আবেদন করতে হয় জেনে নিন।
সিনিয়র সিটিজেন কার্ডে আবেদন পদ্ধতি | (Senior Citizen Card)
দেশের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকরা সিনিয়র সিটিজেন কার্ড পাওয়ার যোগ্য। এটি পরিচয় ও বয়সের প্রমাণ হিসেবে নানা সরকারি প্রকল্প, চিকিৎসা পরিষেবা, পেনশন ও যাতায়াতে ছাড়ের মতো সুবিধার ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। এই কার্ড সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। রাজ্যভেদে কার্ডে আবেদনের পদ্ধতি, নিয়ম ও সুবিধা আলাদা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ আগের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা! বেআইনি পার্কিং সমস্যা মেটাতে অ্যাপ চালুর পথে কলকাতা পুরসভা
সাধারণত ৬০ বছর পেরোলেই ভারতীয় নাগরিকরা প্রবীণ নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন ধরণের সুবিধা পেতে পারেন। সেই ব্যক্তি চাকরিজীবী, স্বনিযুক্ত বা পেনশনভোগী কিনা তার উপর ভিত্তি করে কেউ সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে অযোগ্য হতে পারেন না। তবে নির্দিষ্ট রাজ্য বা প্রকল্পের উপর ভিত্তি করে আরও কিছু শর্ত থাকতে পারে।
কিছু রাজ্যে সরকারি পরিবহণের ভাড়ার ক্ষেত্রে সিনিয়র সিটিজেনদের বিশেষ ছাড় বা সুবিধা থাকতে পারে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিকরা অগ্রাধিকার বা সুবিধা পেতে পারেন। পাশাপাশি যোগ্যতা পূরণ করলে তাঁরা সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারেন। এমনকি কিছু কিছু ব্যাঙ্কে সিনিয়র সিটিজেনদের আরডি বা এফডিতে অন্যান্য গ্রাহকদের তুলনায় বেশি সুদও দেওয়া হতে পারে।
তবে জানিয়ে রাখি, শুধুমাত্র সিনিয়র সিটিজেন কার্ড থাকলেই আয়করে অতিরিক্ত সুবিধা মেলে না। পুরনো আয়কর ব্যবস্থায় বয়স ও নির্দিষ্ট শর্ত অনুসারে সিনিয়র সিটিজেন ও সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা কর সুবিধা থাকতে পারে। পাশাপাশি আমানতের সুদ ও স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
সিনিয়র সিটিজেন কার্ডে আবেদনের জন্য মূলত আবেদনকারীর আধার কার্ড বা পরিচয়পত্র, বয়সের প্রমাণ, ঠিকানার প্রমাণপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও মোবাইল নম্বর দরকার হতে পারে। রাজ্যভেদে রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড সহ অন্যান্য কিছু নথিও চাওয়া হতে পারে।
সিনিয়র সিটিজেন কার্ডের জন্য অনলাইন ও অফলাইন দু’ভাবেই আবেদন সম্ভব। অনলাইনে আবেদনের জন্য নিজের রাজ্যের সরকারি ই-ডিস্ট্রিক্ট বা সমাজকল্যাণ দফতরের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করে ফি জমা করতে হয়।

কেউ চাইলে অফলাইনেও আবেদন করতে পারেন। অফলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে সেবা কেন্দ্র, তহসিলদার বা সংশ্লিষ্ট সমাজকল্যাণ দফতরে যোগাযোগ করতে পারেন ইচ্ছুক ব্যক্তি।
দেশের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি হল সিনিয়র সিটিজেন কার্ড। অনেকেই ভাবেন, এটি হয়তো শুধুমাত্র বয়স ও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। তবে এই কার্ড নানা সরকারি প্রকল্প, চিকিৎসা পরিষেবা, পেনশন ও যাতায়াতে ছাড়ের মতো সুবিধার ক্ষেত্রেও কাজে আসতে পারে।













