বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যজুড়ে আগাছার মতো গজিয়ে উঠেছে বেআইনি নির্মাণ (Illegal Construction)! সাম্প্রতিক সময়ে শহর থেকে জেলা অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ বারে বারে উঠে এসেছে। এবার সেই রকমই বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলায় চরম ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ আদালতের।
বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলায় কড়া হাইকোর্ট | Calcutta High Court
সোমবার পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণ ভাঙা সংক্রান্ত এক মামলা উঠেছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। সেখানেই রাজ্য সরকার ও পুর কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারপতি। ক্ষুব্ধ বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, “রাজ্য যদি না-পারে আমি কেন্দ্রের সহযোগিতা চাইব। কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ করতে হবে।”
শুনানির শুরুতে বিচারপতি বলেন, “পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তার বাইরে আদালত আর কিছু জানতে চায় না। প্রতিদিন শুধু রিপোর্ট জমা হচ্ছে। আমি রিপোর্ট দেখতে চাই না। কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেটা জানতে চাই আমি। ” ২০ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক রিপোর্ট দাখিল করায় এই মন্তব্য করেন বিচারপতি।
পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, “চৌবাগা-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বেআইনি নির্মাণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাওয়া হয়েছিল। যেখানে পুর কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিল না সেখানে এলাকার মানুষজন বড় আকারে আন্দোলন করছে। একাধিকবার জেলাশাসককেও জানানো হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পার্থ ভৌমিক নামে একজন বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বাধা দিচ্ছে।
এরপরই বিচারপতির প্রশ্ন, ‘পাঁচশোর বেশি বেআইনি নির্মাণ রয়েছে সেগুলো নিয়ে কী ব্যবস্থা করা হয়েছে?” কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভাঙার নির্দেশ দেব। তাছাড়া তো আর উপায় নেই।” পাশাপাশি বিচারপতি বলেন, “কোন পার্থ ভৌমিক বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে দিচ্ছে না সেসব শুনতে চাই না।”

আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি! দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় তড়িঘড়ি সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দপ্তর
এদিন কেন্দ্রকে এই মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। জাস্টিস সিনহার মন্তব্য, “রাজ্য যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে তাহলে কেন্দ্রকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হবে। ” ১৬ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।












