বাংলা হান্ট ডেস্ক : আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় (RG Kar Case) নিম্ন আদালত মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন সাজা দিলেও, ঘটনার আসল রহস্য এখনও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। সেই রাতে হাসপাতালে ঠিক কী ঘটেছিল বা, কেন প্রথম দিকে মৃতার পরিবারের সদস্যদের দেহ দেখতে দেওয়া হয়নি—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তিলোত্তমার বাবা-মা। অবশেষে সেই আর্জিতেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
আরজি কর ঘটনায় কী নির্দেশ হাইকোর্টের (Calcutta High Court)?
বৃহস্পতিবার আরজিকর মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ও বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। শুনানির সময় সিবিআইয়ের তদন্ত সংক্রান্ত নথি ও রিপোর্ট নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে আদালত। তদন্তের এতদিনের অগ্রগতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। পাশাপাশি, নতুন করে তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন কি না, সেই বিষয়েও বিশদ আলোচনা হয় এদিন।
এই মামলায় আদালত পুনর্তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশে, সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর (পূর্বাঞ্চল)-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই সিট তদন্তের কাজ শুরু করবে। ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু করে মৃতদেহ দাহ, এমনকি প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ—সব কিছুই এবার নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। শুনানির সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সিবিআইকে উদ্দেশ করে বলেন, “এক বছর সাত মাসে কী করেছেন? আপনাদের রিপোর্টে শুধু সিবিআই কী কী করেছে সেটা লেখা আছে।”
একইসঙ্গে বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, “চার্জশিট জমা দেওয়ার পর ৭০-৮০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেটা করে কী পেলেন?” এর উত্তরে সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কিছু গাফিলতি এবং ত্রুটির উল্লেখ রিপোর্টে রয়েছে। এরপরেই আদালত নির্দেশ দেয়, “ডিনার থেকে শুরু করুন। ইন্সিডেন্ট পর্যন্ত। নিজেরাই যা যা ল্যাপস (গাফিলতি) পয়েন্ট আউট করেছেন সেগুলি নিয়ে ফের কাজ শুরু করুন। ফোকাস করুন ওই ল্যাপসগুলিতে।”

আরও পড়ুন : ‘বিশ্ব রগড়ানি দিবস…’, ভোট পরবর্তী হিংসায় ‘উসকানি’র অভিযোগে পরমব্রতর বিরুদ্ধে FIR হাইকোর্টের আইনজীবীর
আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলার সঙ্গে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বৃহত্তর জনস্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। তাই অভিজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই তদন্তে বহু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর উঠে আসে কি না, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।













