বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দুর্গাপুজোয় কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো দেখতে প্রতি বছর প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর নাম। কিন্তু এবছর পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি রয়েছেন তিনি। পুজোর আগে জেল থেকে বেরোনোর আশায় কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জামিনের আবেদন করেছিলেন সুজিত বসু। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
Calcutta High Court : কী অভিযোগ সুজিত বসুর বিরুদ্ধে?
সুজিত বসুর জামিনের আবেদন প্রথমে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে উঠেছিল। শুনানি চলার সময় বিচারপতির অভিযোগ, সুজিত বসুর আইনজীবীরা তাঁর ঘর থেকে একটি ফাইল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর বিচারপতি এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। পরে মামলাটি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে যায়। সেখানে সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তবে কেন জামিন দেওয়া হল না, তা শুনানির সময় আলাদা করে জানাননি বিচারপতি।
এই মামলায় ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, পুর নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থী চাকরি পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সুজিত বসুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৮.৮ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও কয়েক কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে (Calcutta High Court) জানানো হয়েছে।
এই মামলায় সুজিত বসুর আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন অয়ন শীল। তিনি এই মামলার একজন মধ্যস্থতাকারী বলে পরিচিত। ইডির দাবি, অয়ন শীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বিভিন্ন সময়ে ১৫২ জনের চাকরির জন্য সুজিত বসু সুপারিশ করেছিলেন।
অন্যদিকে, সুজিত বসুর আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে (Calcutta High Court) তাঁর জামিনের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁদের বক্তব্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই সুজিত বসুকে আর জেলে আটকে রাখা উচিত নয়। ইডি তাঁর গ্রেফতারির পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি দেখাতে পারবে না বলেও দাবি করেন তাঁরা।
আইনজীবীরা আরও জানান, ২০১৬ সালের পুর নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ইডি সুজিত বসুকে মূল অভিযুক্ত বলে দাবি করলেও, ২০২৪-২৫ সালে সিবিআই যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল, তাতে তাঁর নাম ছিল না। তাঁদের আরও বক্তব্য, সুজিত বসুর বাড়ি কলকাতায়। তদন্তের জন্য তাঁকে যখনই ডাকা হবে, তিনি হাজির হতে পারবেন। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতেও রাজি।

আরও পড়ুনঃ কালীপুজোর আগেই বড় চমক! অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকা দিচ্ছে মোদী সরকার
উল্লেখ্য, গত ১১ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এই মামলায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম উঠে এসেছে। দুর্নীতির মাধ্যমে পাওয়া টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারী সংস্থার। আপাতত জামিন (Calcutta High Court) না মেলায় জেলেই থাকতে হচ্ছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে।














