বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রত্যেক বছর পুজোর সময় রাজ্যের নানা পুজো মণ্ডপের কাছে বুকস্টল (CPM Book Stall) দেয় সিপিএম। তবে এই বছর সেই বুকস্টল দেওয়া নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) অবধি। সেই মামলার শুনানিতেই বড় প্রশ্ন তুলল উচ্চ আদালত। লটারির দোকান তো নয়, বইয়ের দোকান দেওয়া হবে, অসুবিধার কী আছে? প্রশ্ন করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
পুলিশের রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের | (Calcutta High Court)
বনগাঁর একটি মণ্ডপের সামনে বুকস্টল বসানোর অনুমতি না পেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিপিএম। বুধবার বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। সেই সময় সিপিএমের আইনজীবী বলেন, বহু বছর ধরে তাঁরা সেখানে বুকস্টল দিলেও এই বছর হঠাৎ করে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ বাকিরা অনুমতি পাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ DA বৃদ্ধি নিয়ে চর্চা চলছে! এর মাঝেই সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বড় আপডেট
সিপিএমের দাবি, হিন্দু জাগরণ মঞ্চকে ওই জায়গায় বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুধু সিপিএম বাদে বাকিদের কাছে স্টল বসানোর প্রয়োজনীয় অনুমতি আছে কিনা সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
শুনানি চলাকালীনই একসময় বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “একপক্ষকে অনুমতি দেওয়া হবে আর বাকিদের দেওয়া হবে না, এটা ঠিক নয়। এভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বরকে দাবিয়ে দেওয়া উচিত নয়।“
অন্যদিকে এদিনই আবার রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, সিপিএমের বুকস্টল সংক্রান্ত এই মামলা পুলিশের অতিসক্রিয়তা বা নিষ্ক্রিয়তা বিষয়ক মামলা নয়। এর সঙ্গে পুলিশের কোনও রকম সম্পর্ক নেই। সেই কারণে এই মামলা বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শুনতে পারে না বলে দাবি করেন এজি সুরজিৎ নাথ মিত্র। মামলার শুনানি যাতে উপযুক্ত বেঞ্চে হয়, সেই আবেদনও জানান তিনি।
এদিন এজি বলেন, “বুকস্টল বসাতে চেয়ে মহকুমাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছিল সিপিএম। তবে সংশ্লিষ্ট জায়গাটি পূর্ত দফতরের। উনি কীভাবে অনুমতি দেবেন?”
রাজ্যের দাবি, এই নিয়ে পূর্ত দফতরের কাছে আবেদন জানানো উচিত ছিল সিপিএমের। এজি বলেন, “পূর্ত দফতর বা মহকুমাশাসকের বিরুদ্ধে কোনও মামলার শুনানি এই বেঞ্চে হওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই মামলা পাঠানো হোক।“
এদিন সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, সিপিএমের বুকস্টল সংক্রান্ত এই মামলা তিনি ছেড়ে দেবেন কিনা তা বিবেচনা করে দেখবেন। তবে তার আগে পুলিশের থেকে একটি রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। পূর্ত দফতরের অনুমতি নিয়ে কারা বুকস্টল দিচ্ছে, সেখানে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

জানিয়ে রাখি, পুজোর সময় বামেদের বুকস্টল দেওয়া নিয়ে আগেই কড়া নিদান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, বামেরা ‘শারদোৎসবের’ জায়গায় ‘দুর্গাপুজো’ না লিখলে তাঁদের যেন একটিও স্টল বসাতে না দেওয়া হয়। এরপরেই রাজ্যের নানা প্রান্তে সিপিএমকে বুকস্টল না বসাতে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।
বনগাঁতেও একই অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। এবার সেই নিয়ে পুলিশের রিপোর্ট তলব করল আদালত।














