বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতার (Kolkata) সর্বত্র ফুটপাথ দখলমুক্ত করার অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। তবে দু’বছর পেরিয়ে গেলেও ভিআইপি রোডের দু’ধার এখনও হকারদের জবরদখলে। এবার ভিআইপি রোডের ধারে হকারদের উচ্ছেদ কতটা কার্যকরী হয়েছে এই নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের জবাব তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
উচ্ছেদ মামলায় কড়া হাইকোর্ট | Calcutta High Court
বুধবার এই সংক্রান্ত মামলায় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশের পর উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক জবরদখল এলাকা চিহ্নিত করে পূর্ত দফতরের হাইওয়ে ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে হাইকোর্টে নতুন করে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলাশাসক এবং বিধাননগর ও দক্ষিণ দমদম পুরসভাকে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মে মাসে।
ভিআইপি রোডে উল্টোডাঙ্গা থেকে দমদম এয়ারপোর্ট এক নম্বর গেট পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে বিশাল পরিমাণ সরকারি জমি হকারদের দখলে রয়েছে বলেই অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এয়ারপোর্টমুখী রাস্তা বরাবর বড় খালটিও বুজিয়ে, সেখানে বহু দোকান নির্মাণ হয়েছে। এমনকি গড়ে উঠেছে বসতিও। লেকটাউনের মোড়ে সৌন্দর্যায়নের নামে সরকারি জমি দখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে কয়েক বছর আগে জনস্বার্থ মামলা হয় হাইকোর্টে।
সেই মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে মামলাকারীদের অভিযোগ দেখে পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। শুনানিতে দেদার বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এতদিনেও সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। তাই সম্প্রতি এই প্রসঙ্গে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুনানিতে রাজ্যের তরফে এয়ারপোর্ট বাগুইহাটি লেকটাউন থানার ওসিদের রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়। তবে রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়নি হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন: ৬৮ লক্ষ টাকা নয়ছয়! তৃণমূল প্রার্থী সোহমের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা
শুনানিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ হলে তা দেখার দায়িত্ব জেলাশাসকের। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কিনা তা নিয়ে রিপোর্ট দিতে হবে জেলাশাসককে। সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানায় কোন নির্মাণ করা যাবে না। ভিআইপি রোডের দু’ধারে ব্যক্তিগত মালিকানায় যথেচ্ছ নির্মাণ হয়েছে, আর সেই কারণেই রাস্তায় যানজটে গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে।












