বাংলাহান্ট ডেস্ক: আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৬শে ফেব্রুয়ারী ভারত সফরে আসছেন মার্ক কারনি। তাঁর সফরের আগেই বিরাট এক সিদ্ধান্ত নিল কানাডা সরকার। ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম মূলচক্রী তাহাউর রানার (Tahawwur Rana) নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে অটোয়া। দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে এই পদক্ষেপকে ভারত-কানাডা সম্পর্কের নতুন বার্তা হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক মহল।
২৬/১১ মুম্বই হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার (Tahawwur Rana) নাগরিকত্ব বাতিলের পথে কানাডা
কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো-র আমলে ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি দেখা গিয়েছিল। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এই তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সে দেশের অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব দপ্তর ইতিমধ্যেই রানার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মাছ-মাংস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা! বিহার সরকারের সিদ্ধান্তে তীব্র মতভেদ
পাকিস্তান-বংশোদ্ভূত এই কুখ্যাত তাহাউর রানা বর্তমানে ভারতে বন্দি রয়েছেন। ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাস হামলায় তিনিই ছিলেন মূলচক্রী, এমনটাই অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, তার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা-র যোগ ছিল। ১৯৯৭ সালে সে কানাডায় যায় এবং ২০০১ সালে নাগরিকত্ব পায়। তবে সেই নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে।
কানাডার কর্তৃপক্ষের দাবি, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় রানা বেশ কিছু ভুল তথ্য দিয়েছিল। সে দাবি করেছিল, আবেদন করার আগের ৪ বছর সে অটোয়া ও টরন্টোতে বসবাস করেছে এবং খুব অল্প সময়ের জন্যই দেশের বাইরে ছিল। কিন্তু তদন্তে, বিশেষ করে Royal Canadian Mounted Police-র রিপোর্টে উঠে আসে, ওই সময়ের বেশির ভাগই সে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে কাটিয়েছে, যেখানে তার ব্যবসা ও সম্পত্তির যোগসূত্র ছিল। আর এই তথ্য গোপন করাতেই তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সেদেশের সরকার।

বর্তমানে রানার নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা কানাডার ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নাগরিকত্ব খারিজ করা হবে কি না। কারনির ভারত সফরের আগে এই পদক্ষেপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতা জোরদার করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা দিতেই অটোয়ার এই পদক্ষেপ।












