প্রশ্নের মুখে ৪৫ হাজার কাস্ট সার্টিফিকেট, বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

Published on:

Published on:

caste certificates under question, big step taken by Government
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে কাস্ট সার্টিফিকেট (Caste Certificate) নিয়ে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক কড়াকড়ি। গত কয়েক বছরে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্রগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখতে জোরদার অভিযান শুরু করেছে রাজ্য সরকার( West Bengal Government)। প্রাথমিক যাচাইয়েই একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে, আর কয়েক হাজার নথি এখন বিশদ তদন্তের মুখে।

কাস্ট সার্টিফিকেট (Caste Certificate) নিয়ে কড়া সরকার

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর রাজ্যজুড়ে কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে। গত প্রায় ১৫ বছরে যেসব এসসি, এসটি এবং ওবিসি শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে, সেগুলির তথ্য ধাপে ধাপে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্দেশ্য, প্রকৃত প্রাপকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের মাধ্যমে পাওয়া শংসাপত্র চিহ্নিত করা।
এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ২২ হাজার ১১৭টি শংসাপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পরীক্ষিত ৭৬ হাজার ৭৫০টি নথির ক্ষেত্রে কোনও অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। তবে সব আবেদন সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। যাচাই শেষে ১৩৫টি কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩টি তফসিলি জাতি (এসসি), ৪১টি তফসিলি উপজাতি (এসটি) এবং ১১টি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) শংসাপত্র রয়েছে। এছাড়া আরও ২৯টি নথিকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের সবচেয়ে বেশি নজর এখন ৪৫ হাজার ৩৬৭টি শংসাপত্রের উপর। প্রাথমিকভাবে এগুলির তথ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একে একে শুনানির জন্য ডাকা হবে।

শুনানিতে সেখানে বংশপরিচয়, প্রয়োজনীয় সরকারি নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ পেশ করতে হবে। যাচাইয়ে সন্তোষজনক তথ্য দিতে না পারলে সেই শংসাপত্রও বাতিল করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি শংসাপত্র বাতিলের ঘটনা সামনে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে।

caste certificates under question, big step taken by 
Government

আরও পড়ুন : টেট নিয়ে বড় বিভ্রান্তির অবসান! মাধ্যমিক শিক্ষকদের জন্য কী জানাল কেন্দ্র?

রাজ্য প্রশাসনের মতে, এই অভিযান কোনও নির্দিষ্ট এলাকা বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়। সরকারি নথির স্বচ্ছতা বজায় রাখা, ভুয়ো শংসাপত্রের ব্যবহার রোধ করা প্রকৃত উদ্দেশ্য। আগামী দিনে শংসাপত্র বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের অনুমান। শিক্ষা, চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কাস্ট সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ নথি হওয়ায় এই যাচাই অভিযানের দিকে নজর রয়েছে বিভিন্ন মহলের।