বাংলাহান্ট ডেস্ক: গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে কুখ্যাত এপস্টিন ফাইলস (Epstein Files)। বিশ্বের একের পর এক তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্বদের নাম জড়িয়েছে এই এপস্টিন ফাইলসে। বিগত কয়েকদিন সেরকমই এই বিতর্কে ভারতীয় এক নেতার নাম জড়ানো নিয়ে রীতিমতো গোটা দেশ জুড়ে শোরগোল শুরু হয়। বিতর্কে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী নাম জড়ানো ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয় জোর রাজনৈতিক চর্চা। প্রকাশ্যে আসা কিছু নথি ও ইমেলে তাঁর নাম উঠে আসার পর বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে জানা যাচ্ছে ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ তদন্তের ভিত্তিতে হরদীপকে ইতিমধ্যেই ‘ক্লিনচিট’ দিয়েছে।
এপস্টিন ফাইলস (Epstein Files) বিতর্কে অভ্যন্তরীণ তদন্তে হরদীপকে ‘ক্লিনচিট’ দিল কেন্দ্র
গত ৩০ জানুয়ারি কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টিনের কার্যকলাপ সংক্রান্ত একাধিক নথি ও ইমেল প্রকাশ্যে আনে আমেরিকার মার্কিন বিচার বিভাগ। প্রায় ৩০০০ পাতার সেই ফাইলে বাকিদের সঙ্গে হরদীপ সিং পুরীর নামও উল্লেখ থাকায় বিতর্কের সূত্রপাত হয়। প্রকাশিত ওই নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বছর এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও নিশ্চিন্ত নয়, কারা দিতে পারবেন না ভোট? জানুন
তবে নথির বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানান, ওই যোগাযোগ মূলত বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ, সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সুযোগ এবং ভারতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নথিতে যে সময়কালের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেই সময় হরদীপ কোনও সরকারি পদে ছিলেনই না। তিনি তখন নিউ ইয়র্কভিত্তিক একটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন হরদীপ সিং পুরী। তাঁর নাম এই বিতর্কে জড়ানোর পর থেকেই কেন্দ্রীয় স্তরে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় এবং অভিযোগগুলি আদৌ সত্যি কিনা তা জানতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে ইমেল ও সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণ করে যোগাযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়।

আরও পড়ুন: ফের বাজিমাত মুকেশ আম্বানির! এই কোম্পানিতে ২,০০০ কোটির বিনিয়োগ, সামনে এল পরিকল্পনা
সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে হরদীপ সিং পুরীর বিরুদ্ধে কোনওরকম অপরাধমূলক কার্যকলাপ বা কুকর্মে জড়িত থাকার কোনও প্রমাণই মেলেনি। যার দরুন তাঁকে ‘ক্লিনচিট’ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও বিরোধী মহল এই ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রশ্ন তোলা অব্যাহত রেখেছে, তবে কেন্দ্রের তরফে এখানে নিজের অবস্থান স্পষ্ট রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, প্রকাশিত নথিতে যে যোগাযোগের উল্লেখ রয়েছে, তা পেশাগত পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং অপরাধের সঙ্গে তাঁর যোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি।












