বাংলাহান্ট ডেস্কঃ ভারতের মাটিতে যে সব মহান ব্যক্তি জন্ম নিয়েছেন তাদের মধ্যে চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের প্রধানমন্ত্রী চাণক্য (chanakya) প্রাতঃস্মরণীয়। এখনো পর্যন্ত তার মত একাধারে রাজনীতি, কূটনীতি, যুদ্ধ বিশারদ ও অর্থনীতিবিদ মানুষ ভারতের মাটিতে জন্ম নেয় নি। চন্দ্রগুপ্তের মহামন্ত্রী হলেও তিনিই ছিলেন সাম্রাজ্যের আসল চালিকাশক্তি। চন্দ্রগুপ্তের সিংহাসন আরোহন থেকে শুরু করে নির্বিঘ্নে রাজ্য শাসন সমস্তই তারই উর্বর মস্তিষ্কের ফসল।
ভারতীয় সাহিত্য ও লোকগাঁথায় চাণক্য এক কিংবদন্তি স্বরূপ। তিনি তার বিশাল জ্ঞান লিপিবদ্ধ করেছিলেন অর্থশাস্ত্র ও চাণক্য নীতি নামের দুটি গ্রন্থে। বস্তুত এই দুই গ্রন্থে চাণক্যের দেওয়া উপদেশাবলি যদি কেউ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে পারে তবে নাম, যশ, খ্যাতি ও সম্পদের চূড়ায় ওঠা সম্ভব।
চাণক্য সফল নেতা ও রাজা হিসাবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন বিক্রমাদিত্যকে। চাণক্য লিখেছেন, একজন মানুষকে দলনেতা হতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন শৃঙ্খলা। নিজে সুশৃঙ্খল না হলে কখনোই দলকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে পারবেন না তিনি।
চাণক্যের মতে ভাল দলনেতার দ্বিতীয় গুন স্বার্থহীন হওয়া৷ দলনেতা নিজে যদি স্বার্থপর না হন তবে তার দলও তাকে অনুসরণ করে। পাশাপাশি দলের মধ্যে নেতার প্রতি সম্মানও অনেকখানি বেড়ে যায়।
তৃতীয়ত দলনেতাকে হতে হবে সূক্ষ দৃষ্টি সম্পন্ন। তিনি সহজেই বুঝে যাবেন তার দলের কোন মানুষ কোন দ্বায়িত্ব পালনে পারদর্শী। এতে যেমন দলের মধ্যে বন্ধুত্ব বাড়বে, কমবে রেষারেষিও। প্রত্যেকে খুশিও থাকবে।
দলনেতার দূরদৃষ্টি ও সময় জ্ঞানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলনেতার ভুল সময় জ্ঞান দলকে বিপদে ফেলতে পারে। আবার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দলকে অনেকটাই এগিয়ে দিতে পারে।
সঠিক পরিকল্পনা দলনেতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন চাণক্য। একমাত্র সঠিক পরিকল্পনা ও উপযুক্ত সময়ে সঠিক পদক্ষেপ যেমন কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা করে তেমনই দলকে মজবুতও বানায়।