কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে ইউটিউবের সাহায্যে কৃষিকাজে বাজিমাত! বছরে ৬০ লক্ষের টার্নওভার পাচ্ছেন চেতন

Published on:

Published on:

Chetan Shetty's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুর এক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চেতন শেট্টি আজ কৃষিক্ষেত্রে সাফল্যের (Success Story) এক অনন্য নজির গড়েছেন। আট বছরের কর্পোরেট জীবনের পর তিনি স্থায়ী চাকরি ছেড়ে মাটির টানে ফিরে আসার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৭ সালে তিনি ‘মঞ্জন্না শেট্টি ফ্যামিলি ফার্মস’ প্রতিষ্ঠা করেন। ইউটিউব দেখে শিখে সেখানে প্রচলিত কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক ব্যবসায় রূপান্তরিত করার পথে এগিয়ে যান। বর্তমানে বিদেশি ফল ও প্রচলিত ফসলের মিশ্রণে তাঁর বার্ষিক আয় পৌঁছেছে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকায়।

চেতন শেট্টির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

চেতনের এই যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে, খুব সাধারণ এক উদ্যোগ দিয়ে। ইউটিউবে শেখা কৌশল এবং মাত্র ২৫০০ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি বেঙ্গালুরুর একটি ভাড়া করা রান্নাঘরে মাশরুম চাষ শুরু করেন। প্রথম প্রচেষ্টায় তিনি মাত্র ৪০ টাকা লাভ করেন, কিন্তু এই ছোট সাফল্যই তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। এরপর ২০১৭ সালে সেলস ম্যানেজারের চাকরি ছেড়ে তিনি বেল্লারির ১১ একরের পৈতৃক জমিতে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন, যেখানে একসময় তাঁর পরিবার ধান ও পরে সুপারি ও নারকেল চাষ করত।

আরও পড়ুন: গণনার আগে অ্যাকশনে এনআইএ! তৃণমূল প্রার্থীর এজেন্ট-সহ একাধিক নেতাকে তলব

নিজের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করে চেতন জমির চেহারা আমূল বদলে দেন। তিনি কম ফলনশীল ফসল সরিয়ে দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে ঘন চাষ শুরু করেন। রামবুটান ও ম্যাঙ্গোস্টিনের মতো বিদেশি ফলের শত শত গাছ তিনি ১৫ ফুট দূরত্বে রোপণ করেন। তাঁর চাষের কৌশল বাস্তবমুখী—জৈব পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিলেও প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিতে তিনি পিছপা হননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ফসল বাদ দিয়ে তিনি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করেন।

লাভ বাড়ানোর জন্য চেতন প্রচলিত মান্ডি পদ্ধতি ছেড়ে সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রির (D2C) মডেল গ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, রেস্তোরাঁ ও সরাসরি গ্রাহকদের মাধ্যমে তিনি পণ্য বিক্রি করেন। বর্তমানে তাঁর খামারে ৩,০০০ সুপারি গাছ ছাড়াও রামবুটান, ম্যাঙ্গোস্টিন, গোলমরিচ ও হলুদের চাষ হয়। রামবুটান প্রতি কেজি ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় এবং সুপারি থেকে বছরে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা আয় হয়। সব মিলিয়ে তাঁর মোট আয় ২৫ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে, যেখানে নিট মুনাফা প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।

Chetan Shetty's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন:গণনাকেন্দ্র‌ ঘিরে কড়া প্রস্তুতি, বিজেপি কম ব্যবধানে এগোলে পুনর্গণনা- কঠোর নির্দেশ মমতার

চেতন শেট্টির লক্ষ্য কেবল নিজের সাফল্যে (Success Story) সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এখন ‘কমিউনিটি অ্যাগ্রিগেটর’ হিসেবে ছোট কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং তাঁদের উৎপাদিত ফসল ন্যায্য মূল্যে বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও জমি অধিগ্রহণ করে বিদেশি ফলের চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তাঁর এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারার মাধ্যমে কৃষিকাজও কর্পোরেট চাকরির মতোই লাভজনক ও সম্মানজনক হতে পারে।