বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গাইঘাটা ও ধুলিয়ানে পুলিশের গুলিতে দুই অভিযুক্তের মৃত্যুর পর এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীরা আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পুলিশ চুপ করে বসে থাকতে পারে না। একই সঙ্গে নেশার কারবার এবং মহিলাদের উপর অত্যাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশকে বিশেষ স্বাধীনতা দেওয়ার কথাও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
এনকাউন্টার প্রসঙ্গে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?
মঙ্গলবার দিল্লি সফর শেষে কলকাতায় ফেরেন শুভেন্দু অধিকারী। বিমানবন্দর থেকে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যের সাম্প্রতিক এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। জবাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ আইন হাতে তুলে নিলে পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখতে পারে না। রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।”
এরপরই পুলিশকে দেওয়া বিশেষ ছাড়ের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নেশামুক্তি এবং মহিলাদের উপর অত্যাচার—এই দুই ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিচার করে পুলিশ আধিকারিকরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারবেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনও আধিকারিক বিপাকে পড়লে পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তিনি তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন বলেও জানান শুভেন্দু।রাজ্য থেকে অপরাধীদের দাপট দূর করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই বিজেপি সরকার রয়েছে। তাই অপরাধ করে অন্য কোথাও গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ অপরাধীদের থাকবে না। আইন মেনেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি, ওই অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি তদন্তকারীদের উপর হামলা চালিয়েছিলেন। পরে বিকেলে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিজেপি নেতা খুনের মামলায় অভিযুক্তেরও পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়। এই ঘটনাতেও পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তের হামলার পর পালটা গুলি চালানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন : কেড়ে নিচ্ছে বাকস্বাধীনতা! বিজেপির বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার হননের অভিযোগ মমতার
এর আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্তের মৃত্যুও হয়েছিল পুলিশের গুলিতে। ফলে গত তিন মাসে রাজ্যে এই ধরনের তিনটি ঘটনা সামনে এল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের আক্রমণ ও পালানোর চেষ্টার জবাব দিতেই গুলি চালানো হয়েছিল।














