বাংলা হান্ট ডেস্ক : নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় বড় কথা বলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সরাসরি ‘ভাইপো গ্যাং’-এর দিকে আঙুল তুললেন তিনি। শুধু অভিযোগ তোলাই নয়, এই খুনের জন্য নাকি ২ কোটি টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে কল রেকর্ডিংয়ের প্রসঙ্গও।
চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী(Suvendu Adhikari) ?
চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনা, বাংলার রাজনীতিতে এখনও যথেষ্ট স্পর্শকাতর। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যমগ্রামে আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। বাড়ি ফেরার সময় খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন চন্দ্রনাথ।
ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে যায়। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু হামলার নেপথ্যে আসল মাস্টারমাইন্ড কে, সেই প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর এখনও সামনে আসেনি। এর মধ্যেই চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। মঙ্গলবার তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনেই ছেলের খুনের প্রসঙ্গ তুলে সরব হন শুভেন্দু।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি যা খবর পেয়েছি তাতে চন্দ্রনাথ খুনের পিছনে ভাইপো গ্যাং রয়েছে। ২ কোটি টাকা সুপারি দেওয়া হয়েছে শুটারদের।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন,”আমার কাছে যা খবর আছে তাতে ঘটনার পিছনে ভাইপো গ্যাং রয়েছে। সুপারি কিলারদের ২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আমি ডায়মন্ড হারবারের অনেক লোকের কল রেকর্ডিং শুনেছি। তবে এখন মামলা বিচারাধীন তাই বেশি কিছু বলব না।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ‘ভাইপো গ্যাং’ বলতে কার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তা বুঝতে আর কারোর বাকি নেই।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এতদিন দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও, এবার তার বিরুদ্ধে আরও বড় অভিযোগ।

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা দিবসে কোন মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে? মুখ্যমন্ত্রী কী জানিয়েছেন জানুন
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রও। তিনি বলেন, “একেবারে প্রমাণ ছাড়া তো মুখ্যমন্ত্রীর কোনও কথা বলার কথা নয়। যদি সত্যি এটা হয়ে থাকে এর থেকে দুঃখের কিছু হয় না। মনে রাখতে হবে সত্যি চেপে রাখা যায় না।” চন্দ্রনাথ রথ হত্যার তদন্ত এখনও বিচারাধীন। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আবহে পুরনো এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নতুন করে যে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে।













