বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নেপাল বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে প্রায় ২০ দিন। তবে এখনও কোনও খোঁজ নেই প্রাক্তন বিধায়ক মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা রায়ের (Sarmistha Roy)। তবে বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের (Subhranshu Roy) বিশ্বাস, শর্মিষ্ঠা সহ ৩২ জনই চিন-তিব্বত সীমান্তের কোনও এক অজানা জায়গায় নিরাপদে থাকতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবার।
নেপাল বিপর্যয়ের পর থেকে খোঁজ নেই শর্মিষ্ঠার | (Sarmistha Roy)
মুকুল পুত্রের দাবি, বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপর্যয়ের দিন চিন-তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হড়পা বান আছড়ে পড়ার আগে প্রায় ৫০০ জন পর্যটককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর অনুমান, সেই পর্যটকদলের মধ্যে তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা সহ ৩২ জন পর্যটক থাকতে পারেন। নিজের সমাজমাধ্যমে এই মর্মে বেশ কিছু পোস্টও করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘রাতের মধ্যে ফুটপাথ খালি চাই, আমি রিপোর্ট দেখব’! পরিদর্শনে বেরিয়ে কড়া নির্দেশ অগ্নিমিত্রার
শুভ্রাংশুর দাবি, সরকারি নথি অনুযায়ী বিপর্যয়ের দিন সকাল ৮টার কিছু পরে ইমিগ্রেশন সেন্টার পেরিয়ে চিনা ভূখণ্ডের দিকে যান শর্মিষ্ঠা। এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সকাল ৯টা নাগাদ চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেয় চিনা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ। কিছু পর্যটকদের নিরাপদ উদ্ধারকেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে শুভ্রাংশুর আবেদন, শর্মিষ্ঠাদের অবস্থান যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের মাধ্যমে চিনের বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হোক। তাঁর দাবি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে ও তিব্বত সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগের উপর বিধিনিষেধ থাকার কারণে পর্যটকদের সঙ্গে পরিবার নাও যোগাযোগ করে উঠতে পারে।
নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারগুলির দাবি, সম্ভাব্য সব সূত্র যাচাই করে শর্মিষ্ঠা সহ ৩২ জন পর্যটকের সন্ধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। জানা গিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে দ্রুত সরকারি উদ্যোগের আর্জি জানাতে নবান্ন যাওয়ার তোড়জোড় করছেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, গত ২১ অগাস্ট হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা রায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অগাস্ট রাতে তাঁর সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় শুভ্রাংশুর। ২৬ অগাস্টের বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি।
এরপর দেখতে দেখতে প্রায় ২০ দিন কেটে গিয়েছে। তবে এখনও শর্মিষ্ঠার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। যদিও শুভ্রাংশুর বিশ্বাস, তাঁর স্ত্রী সহ ৩২ জন পর্যটকই ভালো আছেন। একাধিকবার সমাজমাধ্যমে সেকথা বলেছেন তিনি।













