বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ১৫ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের (Kirti Azad) নাম জড়িয়েছে। গ্রেফতারির আশঙ্কায় আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন বর্ধমান দুর্গাপুরের সাংসদ। এবার সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁকে রক্ষাকবচ দিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। পাশাপাশি বড় নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
কীর্তিকে স্বস্তি দিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের | (Kirti Azad)
তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন কীর্তি। সেই আর্জির প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারপতি চন্দ জানান, এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে সাংসদকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ পুজোর পরেই বাড়তে পারে বাস ভাড়া! পরিবহণমন্ত্রীর পর বড় ইঙ্গিত রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রীর
হাইকোর্টের নির্দেশ, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে কীর্তিকে। এরপরেও যদি জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হয়, তাহলে সাত দিনের নোটিশ দিয়ে তাঁকে তলব করতে পারবে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ মে বর্ধমান দুর্গাপুরের সাংসদের দুর্গাপুরের বাংলোয় এক ব্যবসায়ীকে ফোন করে ডাকা হয়। তিনি সেখানে হাজির হলে কীর্তির এক সহযোগী তাঁর থেকে ১৫ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করেন। সেই টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, ওই ঘটনার অডিও রেকর্ড রয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কীর্তি সহ তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বর্ধমান দুর্গাপুরের সাংসদ। পাল্টা রাজনৈতিক কারণে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদের দাবি, যেদিন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে সেদিন তিনি দুর্গাপুরেই ছিলেন না। নিজের দাবির স্বপক্ষে আদালতে বিমানযাত্রার তথ্যও জমা করেন তিনি।
এছাড়া আগাম জামিনের আবেদনে কীর্তির যুক্তি, ঘটনার প্রায় ১৫ মাস পর থানায় এফআইআর হয়েছে। এত দেরি করে কেন অভিযোগ করা হল? পাশাপাশি ১৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হলেও আদৌ সেই টাকা দেওয়া হয়েছিল কিনা সেই প্রমাণ নেই।

প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদের দাবি, এই মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি তদন্তেও সহযোগিতা করতে রাজি। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের হয়েছে, সেটি খারিজ করার আবেদন জানিয়ে আরও একটি মামলা করেছেন তিনি।
এবার কীর্তির সেই আগাম জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতেই তাঁকে রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে সাংসদকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।













