বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শব্দ দূষণ (Sound Pollution) নিয়ন্ত্রণে এবার বিরাট কড়াকড়ি রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) সরকারি নির্দেশেই মাইক বাজানো বন্ধ করা হচ্ছে রাজ্যের একাধিক মসজিদে। যদিও শুধু মসজিদ নয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে মন্দির থেকেও। যদিও রাজ্য সরকারের এই নির্দেশকে হাতিয়ার বানিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক উসকে দিতে শুরু করেছে রাজ্যের বিরোধী শিবির।
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য সরকার সরল লাউড স্পিকার
যদিও বৃহস্পতিবারই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের এই অভিযান রাজ্যজুড়ে অব্যাহত থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এখনও পর্যন্ত মোট ৫,২৯৯টি লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে। যার মধ্যে ৪,২০৩টি মসজিদ থেকে এবং ১,০৯৬টি মন্দির থেকে’।
মাইক বাজানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এটা কোনো নতুন আইন নয়। তাঁর কথায়, ‘সরকার শুধুমাত্র শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ২০২২ সালের হাইকোর্টের আদেশ মেনে চলছে। তাই ৫০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের লাউডস্পিকার যে কোনো ধরনের ধর্মীয় স্থান থেকে সরিয়ে ফেলা হবে। সেটা মন্দির হোক বা মসজিদ।’
আরও পড়ুনঃ ট্রাইবুনালে আবেদন না করে থাকলে কি হবে ভবিষৎ? সাফ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
ধর্মীয় বিভাজন সংক্রান্ত বিষয়ে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে বিরোধীদের একহাত নিয়ে শুভেন্দু বাবু প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল। এখন কেন মসজিদ বলা হচ্ছে, মন্দিরের নাম কেন বলা হচ্ছে না? ধর্মীয় স্থান মানে তো মসজিদ, মন্দির সব হতে পারে।’ একইসাথে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কোনো ধর্মীয় স্থান থেকে জোর করে লাউডস্পিকার খোলা হয়নি। পুলিশ আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ করছে। সবাই সহযোগিতা করছেন।’
পুলিশ কর্মীদের সাহায্য চেয়ে আবেদন মসজিদ কমিটি বলে মাইক অপসারণ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন, অল বেঙ্গল ইমাম অ্যান্ড মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশনের নিজামউদ্দিন বিশ্বাস। মসজিদ কমিটিগুলোকে পুলিশ কর্মীদের সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কর্মকর্তারা মাইক্রোফোন সরাতে চাইলে প্রতিরোধ করবেন না, বরং ভবিষ্যতের যেকোনো আইনি কার্যক্রমের জন্য ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়াটি নথিভুক্ত করুন।’
অন্যদিকে এপ্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এজেইউপি প্রধান এবং নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশিকা মানা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ‘উন্নয়নের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তারা বারবার লাউডস্পিকার, পশু কুরবানি এবং আজানের মতো বিষয় তুলে আনছে।’













