সরকারি ভাতা বন্ধ, হতে পারে জেল! বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Published on:

Published on:

CM Suvendu Adhikari strict announcement to prevent child marriage in the state
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ (Child Marriage) আটকাতে এবার কড়াকড়ি শুরু করল রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্ন থেকে এই বিষয়ে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, বাল্যবিবাহ ও নাবালিকাদের গর্ভবতী হওয়ার তালিকায় সারা দেশের মধ্যে উপরের দিকে রয়েছে বাংলার নাম।

নাবালিকাদের স্বামীদের কাছে যাবে শোকজ লেটার | (Suvendu Adhikari)

বাল্যবিবাহ ও নাবালিকাদের গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলার সামগ্রিক অবস্থার ছবি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের অবস্থা ভয়ানক।“ একইসঙ্গে তিনি জানান, বাল্যবিবাহ আটকাতে এবার বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো হবে। যারা বাল্যবিবাহ করবে ও যারা সেই বিয়ে দেবে, দুই পক্ষেরই কড়া শাস্তি হবে। সব সরকারি ভাতা বন্ধ হবে। পাশাপাশি পুরোহিত-কাজিদের জেলও হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ পুজোর আগে ঢালাও বেতন বৃদ্ধি! কাদের কত করে বাড়ল, কবে থেকে মিলবে? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

শুভেন্দু বলেন, যেসব পুরোহিত, কাজি বাল্যবিবাহ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন এবং যেসব পরিবারের সদস্যরা এই ধরণের বিয়ের বন্দোবস্ত করছেন তাঁরা ছাড় পাবেন না। সবাইকে পাকড়াও করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের ঘটনায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ২ বছর অবধি জেলের কথা রয়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সকল নাবালিকা বধূর স্বামী ও পরিবারের কাছে শোকজ লেটার পাঠানো হবে। বধূর বয়স যে ১৮ হয়ে গিয়েছে, সেটা তাঁদের প্রমাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে বধূর আধার কার্ড, স্কুল সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেটের মতো নথি দিয়ে বয়স প্রমাণ করতে হবে। ১৮ হয়ে গিয়েছে তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে কড়া শাস্তির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

একইসঙ্গে শুভেন্দু জানান, হাসপাতালে কোনও নাবালিকা স্ত্রীর প্রসব হলেও ছাড় মিলবে না। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ও আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে পকসো আইনে ব্যবস্থা হবে।

Suvendu Adhikari

এদিন জানানো হয়, ১৮ বছরের নীচে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হলে পকসো আইনের ধারা ৩ ও ৪ অনুসারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ১০ বছরের কারাবাস অবধি হতে পারে। নাবালিকার বয়স যদি ১৬ বছরের কম হয় তাহলে আজীবন কারাদণ্ডের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই সঙ্গেই নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়লে ২০ বছরের জেল হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে বাল্যবিবাহ রোধ করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বাল্যবিবাহ রোধে তখন আইনও হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারও কড়া আইন আনে। তা সত্ত্বেও এই সামাজিক ব্যাধি পুরোপুরি দূর করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে বাল্যবিবাহ রুখতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।