বাংলা হান্ট ডেস্ক : উৎসবের ভিড় যেন আর কোনওভাবেই প্রাণহানির কারণ না হয়ে ওঠে, সেই চিন্তাই এখন রাজ্য প্রশাসনের কাছে বড় হয়ে উঠেছে। তাই কালীপুজো ছটপুজোর আগে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগে থেকে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, এই প্রস্তুতি নিয়ে আগামী বুধবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উৎসবের মরশুমে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন উৎসবগুলিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হবে। বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন একাধিক জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। কোথায় কতটা নিরাপত্তা প্রয়োজন, কোন এলাকায় ভিড়ের চাপ বেশি হতে পারে এবং বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, সেই বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে আলোচনায়।
উল্লেখ্য, কালীপুজোর সময় উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও নৈহাটি এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগরে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো হয়। বড় মণ্ডপগুলিতে জনসমাগম বাড়লে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ সচল রাখা, মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং জরুরি পরিষেবার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার প্রয়োজন হয়।
ছটপুজোর ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আলাদা নয়। কলকাতা থেকে হাওড়া, হুগলি, দুর্গাপুর ও আসানসোল—বিভিন্ন জায়গায় পুণ্যার্থীরা জলাশয় ও নদীর ঘাটে সমবেত হন। সেই কারণে ঘাটগুলিতে নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো, বিপর্যয় মোকাবিলার সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধারকর্মী মোতায়েনের মতো বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হতে পারে। জনতার চাপে যাতে কোনও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হতে পারে।

আরও পড়ুন : বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটা! পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের, ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় নজনকে গ্রেপ্তার করার কথাও জানা গিয়েছে। চোরবাগানের ঘটনা উৎসবের ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও সামনে এনে দিয়েছে।














