ট্রাম্পের শান্তি কমিটিতে পাকিস্তানের এন্ট্রি! নেটদুনিয়ায় উঠল হাসির রোল

Published on:

Published on:

Controversy begins after Pakistan joins Trump's Board of Peace Committee.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত গাজা শান্তি কমিটিতে পাকিস্তানের (Pakistan) যোগদান নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ। এর পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও মিমের বন্যা। এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লিখেছেন, “ওসামা বিন লাদেনকে ফিরিয়ে আনুন। তাকেই শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান করুন।” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে পাকিস্তানের অতীত ও সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র।

ট্রাম্পের শান্তি কমিটিতে পাকিস্তানের (Pakistan) যোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক:

সমালোচকদের দাবি, যে পাকিস্তানকে দীর্ঘদিন ধরে ‘সন্ত্রাসবাদের আঁতুরঘর’ বলে চিহ্নিত করা হয়, সেই দেশকে কীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার কমিটিতে জায়গা দেওয়া হল—তা বোধগম্য নয়। আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেন যে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদেই দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিল এবং সেখানেই মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়, সেই ইতিহাস ফের টেনে আনছেন অনেকে। সমাজমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লেখেন, “যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শান্তি ফেরানোর দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের তালিকায় পাকিস্তানের নাম থাকা রীতিমতো হাস্যকর।”

আরও পড়ুন: ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনার সম্মুখীন যাত্রীবাহী বিমান! রাজনৈতিক নেতা সহ মৃত্যু ১৫ জনের

বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে কমিটির আর্থিক শর্ত ঘিরে। জানা যাচ্ছে, গাজা শান্তি কমিটিতে যোগ দিতে হলে সদস্য দেশগুলিকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ফি দিতে হচ্ছে। এখানেই প্রশ্ন তুলছেন বহু পাকিস্তানি নাগরিক। দেশের অর্থনীতি যখন চরম সংকটে, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে এল—তা নিয়েই কৌতূহল ও ক্ষোভ। এক নেটিজেনের মন্তব্য, “যেখানে মানুষ ঠিকমতো দু’বেলা খাবার জোটাতে পারছে না, সেখানে সরকার এত টাকা ব্যয় করল কোন যুক্তিতে?”

নীতিগত ভাবে পাকিস্তান বরাবরই প্যালেস্তাইনের সমর্থক এবং সেই কারণেই ইসলামাবাদ এখনও ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এই অবস্থানে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। ফলে ট্রাম্পের শান্তি কমিটিতে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল ইজরায়েল। যদিও সেই আপত্তি কার্যত উপেক্ষিতই থেকে গিয়েছে।

Controversy begins after Pakistan joins Trump's Board of Peace Committee.

আরও পড়ুন: আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নেতানিয়াহু! কবে ইজরায়েল সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

সব বিতর্ক সত্ত্বেও ট্রাম্পের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিয়েছে পাকিস্তান। সরকারের তরফে এটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হলেও, দেশজুড়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—শান্তি প্রতিষ্ঠার এই মঞ্চে পাকিস্তানের ভূমিকা আদৌ কতটা বিশ্বাসযোগ্য।