বাংলাহান্ট ডেস্ক: কেনাকাটার সময় বিল তৈরির জন্য মোবাইল নম্বর (Mobile Number) দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়—এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। শপিং মল, শপিং কমপ্লেক্স বা খুচরো বিক্রেতারা কোনও ক্রেতাকে মোবাইল নম্বর দিতে বাধ্য করতে পারবেন না বলেই জানানো হয়েছে। বিল তৈরির সময় বা দোকানে প্রবেশের সময়, ক্রেতার সম্মতি ছাড়া ফোন নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। ক্রেতার ইচ্ছাই এ ক্ষেত্রে শেষ কথা—এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্র।
শপিং মলে বিল তৈরিতে বাধ্যতামূলক নয় গ্রাহকদের ফোন নম্বার (Mobile Number)!
সম্প্রতি লোকসভায় সাংসদ জনার্দন সিংহ সিগরিওয়াল এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, শপিং মল বা বড় রিটেল চেইনগুলিতে কেনাকাটার সময় মোবাইল নম্বর নেওয়া নিয়ে কেন্দ্র কোনও নির্দেশিকা জারি করেছে কি না। উত্তরে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী পি চন্দ্রশেখর জানান, ২০২৩ সালের ২৬ মে ক্রেতাসুরক্ষা দফতর এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পণ্যে কবে থেকে লাগু নতুন মার্কিন শুল্ক? মিলল আপডেট
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও পণ্য বিক্রি বা পরিষেবা প্রদানের সময় ক্রেতার সম্মতি ছাড়া তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। মোবাইল নম্বর দেওয়া কখনওই বিক্রির পূর্বশর্ত হতে পারে না। অর্থাৎ, কোনও ক্রেতা যদি নম্বর দিতে না চান, তা হলে তাঁকে পণ্য বা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এই বিষয়ে কেন্দ্র পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এমন কোনও আইন বা বিধান নেই যাতে ক্রেতাকে মোবাইল নম্বর দিতে বাধ্য করা যায়।
পি চন্দ্রশেখর তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত দিকটিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন আইন এবং ২০২৫ সালের সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলিতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করলেও তা আইনি উপায়ে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে হবে এবং অপব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি আইনে গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন:জ্বালানি নিয়ে আর নেই চিন্তা, এই দেশগুলি থেকে ভারতে আসছে বিপুল তেল, বড় পদক্ষেপ সরকারের
যদিও গত তিন বছরের বেশি সময়ে শপিং মলগুলির বিরুদ্ধে মোবাইল নম্বরের অপব্যবহার নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি, তবুও ক্রেতাদের মধ্যে এই বিষয়ে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে বিল তৈরির সময় ফোন নম্বর চাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন অনেকেই। কেন্দ্রের এই স্পষ্ট বার্তায় সেই বিতর্কে আপাতত ইতি পড়ল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।













