বিক্রি বেড়ে দ্বিগুণ! E20 ঘিরে উদ্বেগের আবহে বাড়ছে ইথানল-ফ্রি পেট্রোলের চাহিদা

Published on:

Published on:

Demand for ethanol-free petrol is increasing amid concerns over E20 Petrol.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের (E20 Petrol) বিষয়টি। শুধু তাই নয়, অনেকেই এই জ্বালানি ঘিরে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এই আবহেই ১০০-অক্টেন প্রিমিয়াম পেট্রোলের (Premium Petrol) বিক্রি সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এটিই একমাত্র গ্রেড যাতে ইথানল নেই। মূলত, ইথানল (Ethanol) মিশ্রিত জ্বালানি থেকে যানবাহনের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে জল্পনার ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই এই বিষয়টি সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, জুলাই মাসে এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয়েছে। জানিয়ে রাখি যে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এক্সপি১০০, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন স্পিড১০০ এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন পাওয়ার১০০ সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অধীনে ১০০-অক্টেন পেট্রোল বিক্রি করে। এই গ্রেডের জ্বালানি মূলত সুপারকার, লাক্সারি সেডান এবং সুপারবাইকের মতো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহনের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

E20 (E20 Petrol) ঘিরে উদ্বেগের আবহে বাড়ছে ইথানল-ফ্রি পেট্রোলের চাহিদা:

তবে, সামগ্রিকভাবে এই চাহিদা এখনও সীমিত, যা ভারতের মোট পেট্রোল বিক্রির মাত্র ০.১ শতাংশ। আসলে, এটির দাম সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড একজনকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলিতে আমরা ইথানল-মুক্ত পেট্রোলের চাহিদায় একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখেছি।’ এদিকে, ইথানল-যুক্ত জ্বালানি যানবাহনের ক্ষতি করে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা দাবিগুলি এই বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। সর্বোচ্চ চাহিদা এসেছে দিল্লি থেকে। তবে, এই বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রয়ত্ত তেল সংস্থাগুলির তরফ কোনও বিবৃতি সামনে আসেনি।

Demand for ethanol-free petrol is increasing amid concerns over E20 Petrol.

সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে ৫৭ শতাংশ বেশি দামি: জানিয়ে রাখি যে, দিল্লিতে, ইথানল-মুক্ত ১০০-অক্টেন পেট্রোলের খুচরো মূল্য প্রতি লিটারে প্রায় ১৬০ টাকা। যা সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে প্রায় ৫৭ শতাংশ বেশি। এদিকে, ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত সাধারণ পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ১০২.১২ টাকা। যেখানে E20 প্রিমিয়াম গ্রেড এক্সপি ৯৫, স্পিড ৯৭, এবং পাওয়ার ৯৫-এর দাম প্রতি লিটারে প্রায় ১১১ থেকে ১১২ টাকা। মুম্বাইতে, ১০০-অক্টেন পেট্রোলের খুচরো মূল্য প্রতি লিটারে প্রায় ১৬৭.৩৫ টাকা। যেখানে সাধারণ পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ১১১.২১ টাকা। প্রিমিয়াম গ্রেড E20-র দাম প্রতি লিটারে প্রায় ১২০ থেকে ১২১ টাকা। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, চাহিদা কম থাকার কারণে দেশের ১ শতাংশেরও কম পেট্রোল স্টেশনে ১০০-অক্টেন পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে এবং এটি মূলত মেট্রো শহরগুলিতেই সীমাবদ্ধ।

আরও পড়ুন: গাছ থেকে পড়ে বাদ যায় হাত! কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে নজির দিলীপের, একই ইভেন্টে এল রুপোও

চাহিদা শীঘ্রই হ্রাস পেতে পারে: এদিকে, আধিকারিকরা আশা করছেন যে, চাহিদার সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি সাময়িক এবং ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ কমে গেলে এর বিক্রিও হ্রাস পাবে। একজন উচ্চ আধিকারিক জানিয়েছেন যে এই জ্বালানিটি সুপার-প্রিমিয়াম যানবাহনের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। বর্তমান প্রবণতা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে সাধারণ গাড়ির মালিকরাও এটি কিনছেন। এই পরিস্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হবে না, কারণ এতে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এদিকে, গত সপ্তাহে সরকার জানিয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ফুয়েল রিটেলার্সের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া প্রিমিয়াম-গ্রেড পেট্রোলের সরবরাহ ইথানল মিশ্রণ ছাড়াই অব্যাহত থাকবে। সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে, ইথানল মিশ্রণ ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং E0 বা E10 পেট্রোল পুনরায় চালু করারও কোনো প্রস্তাব নেই।

আরও পড়ুন: আচমকাই বিপর্যয়! মাত্র ১ ঘণ্টায় বিধ্বস্ত ২০০ পরিবারের গোটা গ্রাম, অসমে বন্যার ভয়াবহ ধ্বংসলীলা

E20 পেট্রোল ঘিরে বিতর্ক: E20 পেট্রোলকে ঘিরে এই কারণে বিতর্ক বাড়ছে কারণ কারণ কিছু যানবাহন, বিশেষ করে পুরোনো মডেলের যানবাহনগুলি এই ধরণের জ্বালানির জন্য তৈরি নয়। তাই, সেগুলির যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে, মাইলেজ কমে যেতে পারে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যেতে পারে। এই মাসের শুরুতে, সরকার স্বীকার করেছে যে সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় E20 পেট্রোল গাড়ির মাইলেজ ৩-৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়। তবে, সরকার এটাও জানিয়েছে যে এই মিশ্রণটি উচ্চতর অকটেন রেটিং, উন্নত অ্যান্টি-নকিং পারফরম্যান্স, দ্রুত ইগনিশন, ভালো পিকআপ, মসৃণ অ্যাক্সিলারেশন এবং পরিচ্ছন্ন ইঞ্জিন অপারেশন প্রদান করে।