বাংলাহান্ট ডেস্ক: সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে নেপালে (Nepal) রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল ক্ষমতাচ্যুত রাজা জ্ঞানেন্দ্র-র দেশে ফেরা। রাজধানী কাঠমান্ডু-র ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বাইরে তাঁকে স্বাগত জানাতে ভিড় জমান হাজার হাজার সমর্থক। বিমানবন্দর চত্বর থেকেই ওঠে রাজতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের স্লোগান। শনিবার সকাল থেকেও সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাজভক্তদের জমায়েত হয়। ‘রাজাকে ফেরাও’ দাবিতে সরব এই সমাবেশ ঘিরে ভোটের আগে অশান্তির আশঙ্কা বাড়ছে।
নেপালে (Nepal) নির্বাচনের আগে ফিরলেন ক্ষমতাচ্যুত রাজা
গত সেপ্টেম্বর মাসে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের জেরে পতন ঘটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি-র সরকারের। পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন আগামী ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। ২৭৫টি আসনে প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটার ভোট দেবেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৬৫টি রাজনৈতিক দল।
আরও পড়ুন: ড্রোনের জন্য আলাদা রানওয়ে! ভারতের এই রাজ্যে তৈরি হচ্ছে আধুনিক সামরিক ঘাঁটি
রাজতন্ত্রের প্রশ্ন নেপালে নতুন নয়। গত বছর ফেব্রুয়ারিতেও রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। রাজতন্ত্রপন্থী রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি-র পাশাপাশি কিছু গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যেও ‘প্রতীকী রাজতন্ত্র’-এর দাবি উঠেছিল। নির্বাচনের মুখে জ্ঞানেন্দ্রের প্রত্যাবর্তন সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন জ্ঞানেন্দ্র। ২০০৮ সালের মে মাসে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ২৪০ বছরের পুরনো শাহ রাজবংশের অবসান ঘটে এবং নেপাল আনুষ্ঠানিকভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ২০১৫ সালে নতুন ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান কার্যকর হয়। রাজতন্ত্রের আমলে নেপাল ছিল হিন্দুরাষ্ট্র, যা পরে সংবিধানে পরিবর্তিত হয়।

আরও পড়ুন: বর্ণবিদ্বেষের প্রাচীর ভেঙে নতুন দিশা! ঘোষণা হল ভারতের প্রথম ‘জাতপাত মুক্ত’ গ্রামের নাম
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্ঞানেন্দ্র সাধারণ নাগরিক হিসেবেই বসবাস করছেন, তাঁর কোনও প্রশাসনিক ক্ষমতা বা সরকারি সুবিধা নেই। ২০০১ সালের রাজপ্রাসাদ হত্যাকাণ্ডের পর তিনি সিংহাসনে বসেন এবং ২০০৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ক্ষমতা নিজের হাতে নেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁর পতনের কারণ হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাঁকে পুনরায় সিংহাসনে ফেরানোর দাবিতে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। ভোটের আগে তাঁর প্রত্যাবর্তন নেপালের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।












