বাংলাহান্ট ডেস্ক: বুধবার নিজের সংসদীয় এলাকা ঘাটালের বন্যাকবলিত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছালেন তৃণমূলের সাংসদ অভিনেতা দেব (dev)। সমগ্র ঘাটাল ও কেশপুর, চন্দ্রকোণা এলাকা ডুবে রয়েছে জলে। এদিন বন্যা দুর্গতদের অবস্থা দেখে সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করে ক্ষোভ উগরে দিলেন দেব।
রাজনীতিতে আসলেও সাধারণত অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে ঠেস দিয়ে কথা বলতে খুব একটা দেখা যায়না দেবকে। রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখতেই বরাবর বিশ্বাসী তিনি। কিন্তু এদিন যেন তাঁরও ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল। ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে এসে কেন্দ্রের বিজেপি দলকে নিশানা করে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।
সাংসদ বলেন, “আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি, যতদিন না দিদি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ততদিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানটা সম্ভব হবে না। ততদিন কেন্দ্রে যদি অন্য সরকার থাকে, বিশেষ করে আজকের সরকার থিকে তবে মানুষের এই দুর্দশা যাবে না। বিরোধী দল যতই বলুক আমরা সোনার বাংলা বানাব, এই করব, সেই করব। ভোটের পর তাদের কারোরই আর হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না।”
দেব আরো বলেন, তিনি কাউকে সাধারণত এমন সরাসরি বলেন না। কিন্তু আজ বলতে বাধ্য হচ্ছেন। এত বলার পর, এত চিঠি দেওয়ার পরেও যদি তাদের ঘুম না ভাঙে। শুধু ভোটের সময় এসে প্রতিশ্রুতি দিলে সেটা খুবই দুঃখজনক। এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী করার ডাক দেন দেব।
উল্লেখ্য, ঘাটাল, চন্দ্রকোণা ও কেশপুরের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১৯৮২ সালে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এতগুলো বছর কেটে গেলেও তা আর বাস্তব হয়নি। দেব নিজেও সংসদে দাঁড়িয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য সওয়াল করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই। ফলতঃ প্রত্যেক বছরই বৃষ্টি এবং ডিভিসির জল ছাড়ার জন্য বন্যা পরিস্থিতি হয় ঘাটাল ও সংলগ্ন এলাকায়।
বন্যা পরিস্থিতিতে এখনো পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। এদিন ঘাটালে গিয়ে নৌকায় করে পুরো বন্যাকবলিত এলাকাটা ঘুরে দেখেন দেব। ত্রাণ সামগ্রী বিলি, মৃতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের অর্থও তুলে দেন দেব।