বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার (Government of West Bengal)। এবার রাজ্য বোর্ডের পড়ুয়ারা যাতে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা ও সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় বাজিমাত করতে পারে সেই জন্য বড় উদ্যোগ নেওয়া হল। মঙ্গলবার এই বিষয়ে বড় ঘোষণা করেছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন (Dipak Barman)।
রাজ্য বোর্ডের পড়ুয়াদের জন্য বিরাট উদ্যোগ সরকারের | (Government of West Bengal)
এদিন স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলতে নতুন শিক্ষা পদ্ধতি ও সিলেবাস দরকার। এই বিষয়ে আলোচনার জন্য ইতিমধ্যেই অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি সিলেবাস কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই কমিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদরাও থাকবেন।
আরও পড়ুনঃ সাংসদ পিছু ৫ হাজার জনকে সুযোগ! অন্নপূর্ণা যোজনা পাওয়ার আরেক রাস্তা খুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
দীপক জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা হবে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা পদ্ধতি অথবা সিলেবাসে বিরাট আকারের কোনও বদল আনা হবে না। বর্তমান সিলেবাস পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুসারে সীমিত কিছু সংশোধন আনা হবে। আগের মতোই পড়ুয়াদের সরকারি বই দেওয়া হবে। আপাতত কোনও নতুন বই যোগ করা হচ্ছে না।
তবে একইসঙ্গে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একেবারে নতুন কারিকুলাম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। দরকার পড়লে এই বিষয়ে আরও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুসারে সিবিএসই-র মতো বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে কিনা সেই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন দীপক। তিনি বলেন, ভালো কোনও বিষয় হলে গ্রহণ করা হবে, খারাপের ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া হবে। আমাদের কোনও ট্যাবু অথবা ইগো নেই।
স্কুল শিক্ষামন্ত্রী জানান, আপাতত সরকারের অগ্রাধিকার হল সময়মতো আগামী বছরের বই পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই কারণে সিলেবাস কমিটিকে দ্রুত সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির ক্ষেত্রে রাজ্যের পড়ুয়ারা যাতে পিছিয়ে না থাকে, নতুন সিলেবাসের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দীপক বলেন, নতুন সিলেবাস খসড়া তৈরি হওয়ার পর সেটি জনসমক্ষে আনা হবে। এই বিষয়ে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক সংগঠন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন সকলের মতামত নেওয়া হবে। সেগুলি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সরকার।
রাজ্যের পড়ুয়াদের সিলেবাসে আমূল বদলের কথা আগেই জানিয়েছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ সিলেবাসে বড় পরিবর্তন আনা হবে বলে জানান তিনি। এবার এই বিষয়ে আরও বিশদ ধারণা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী।

















